মাত্র এসেছি নিউজার্সির ছোট ভাইয়ের বাসায়। এসেই দেখতে পাচ্ছি এ অপরূপ, নিষ্পাপ ও নির্মল তুষার পাত। বেশ ধীরে ধীরে দুলে দুলে তুষার পড়ছে। কখনো ডান থেকে বাম দিকে ঈষৎ তীর্যকভাবে, আবার কিছুক্ষণ পরই বাম থেকে ডান দিকে তীর্যকভাবে। তুষারের মধ্যে কয়েকটা কাঠবেড়ালি এদিক ওদিক ছোটাছুটি করছে, কেন করছে কে জানে।
প্রকৃতির প্রতিটি দৃশ্যই আসলে স্রষ্টার কিছু নীরব বাক্য আর প্রকৃতির নীরবতার মাঝেই লুকিয়ে থাকে মৌলিক অনেক প্রশ্ন এবং উত্তরের ইশারা। কিন্তু মানুষ পছন্দ করে শব্দ, অথচ সত্য বাস করে দৃশ্যের গভীরে আর দেখতে জানলেই প্রকৃতি হয়ে ওঠে দর্শনের সূত্র।
প্রকৃতি কতনা বিচিত্র রূপে আমাদের কাছে নিজেকে উপস্থাপন করে। মাঝে মাঝে মনে হয় পৃথিবীতে মানুষ না থাকলে সে কি নিজেকে এমন নানান বিচিত্র রূপে সেজে গুজে মানবজাতির সামনে উপস্থিত হতো? প্রকৃতির প্রতিটি উপস্থিতির পেছনে আছে গভীরতর রহস্য, যে রহস্য মানবজাতি কখনো সম্পূর্ণটা জানতে পারবে না।
R6EX37 ম্যাগনিফিকেশন : কালো পটভূমিতে আলাদা করে তোলা তুষার ক্রিশটাল,
যেমন এই যে ট্রিলিয়ন, কোয়াড্রিলিয়ন (১-এর পরে ১৫টা শূন্য) বা কুইন্টিলিয়ন (১-এর পরে ১৮টা শূন্য) তুষারের ক্রিশটাল, এরা প্রত্যেকে ইউনিক, অর্থাৎ স্রষ্টা প্রত্যেককে আলাদা আলাদা ডিজাইনে আলাদা আইডেন্টিটি দিয়ে বানিয়েছেন। কেন বানিয়েছেন কে জানে। নাকি স্রষ্টা তাঁর খেয়ালে এটা করেছেন। তিঁনি কি খেয়ালে কিছু করেন?
অনেক আঁতলামি আলাপ করার ইচ্ছা ছিলো কিন্তু বাড়ি আমার বরিশাল। লুঙ্গি ছাড়া আমার চলে না আর লুঙ্গি পরে এ মাইনাস টেম্পারেচারে বেশি সময় তুষারের মধ্যে দাঁড়ানো ভয়াবহ বিপদজনক, কেননা স্পষ্ট টের পাচ্ছি ভাইটাল ওরগ্যানে লুঙ্গির খোলা অংশের নিচে থেকে প্রচন্ড কনকনে ঠান্ডা বাতাস মরন আঘাত হানতে শুরু করেছে। জীবন বাঁচানো ফরজ, এ ভাইটাল অরগ্যানটি বাঁচানো আরো ফরজ।
১৭ জানুয়ারি, ২০২৬
ফ্লোরহ্যাম পার্ক, নিউ জার্সি


