ঘরটির দিকে ভালোভাবে তাকিয়ে দেখুন।
ভোলার পশ্চিম ইলিশা ইউনিয়নের চর পাঙ্গাসিয়া গ্রামের এই কপর্দকহীন কামলার (প্রমিত ভাষায় আদর করে এদের দিনমজুর ডাকা হয়) নাম তৌসির।
সে যে ঘরটির সামনে দাঁড়িয়ে আছে, সেটি বানাতে কতো টাকা খরচ হয়েছে জানেন?
মাত্র ১৫০০ টাকায় সে এই ঘর নামের খুপরিটি বানিয়েছে। ১৫০০ টাকা হচ্ছে স্টারের ৬টি হাফ প্লেট কাচ্চির দাম বা নিম্ন মাঝারি রেস্টুরেন্টে একবেলা বুফে লাঞ্চের দাম বা ২ বর্গফুট মার্বেলের দাম।
মাথাপিছু ২৬০০ ডলার আয়ের দেশে তৌসিরের তো তাত্ত্বিকভাবে বছরে প্রায় ৩ লাখ টাকা আয় । বছরে ৩ লাখ টাকা যার আয় এমন মানুষ কেন মাত্র ১৫০০ টাকা দিয়ে নিজের ঘর বানায়, যেখানে এক খাটের ওপর সে, তার স্ত্রী আর দুই ছেলে পশুর চেয়েও বেশি জড়াজড়ি করে ঘুমায়। ঘুমের মধ্যেই মধ্যরাতে আবিষ্কার করে, ভাদ্র মাসের অঝোর বৃষ্টিতে তারা সবাই ভিজে জবজবে হয়ে গেছে।
সে কি বোকা, কৃপণ, নাকি ঘটনার অন্য কোনো লৌকিক ব্যাখ্যা আছে?
আমি এ শুভঙ্করী গুরুতত্ত্ব কিছুই বুঝতে পারি না। তবে ছবিই অনেক কথা বলে, তাই বেশি বেশি লিখে তেমন কোনো লাভ নেই । বরাবরের মতো নিরুপায় হয়ে আবার ভাবি, জগৎ বড়োই রহস্যময়।
২৫ আগস্ট, ২০২৩
চর পাঙ্গাসিয়া গ্রাম, পশ্চিম ইলিশা ইউনিয়ন, ভোলা

