পতিত সুবাস ও সুবাসিত হাসনাত ভাই

এই বিষাদময় করোনাকালের অখণ্ড অবসরে অতীতের স্মৃতিগুলো বারবার ঘুরে ঘুরে চোখে ভাসে। পুরানো কাগজপত্র ঘাটাঘাটি করতেই হঠাৎ আজ পেয়ে গেলাম ১৯৮৫ সালের ইউকসুর একুশে সংকলনটা। সংকলনটা হাতে নিতেই প্রিয় হাসনাত ভাইয়ের কথা মনে পড়ে গেল। বন্যার পানির মতো হাজারো স্মৃতি মনটাকে ভিজিয়ে দিলো নিমিষে।

বহুদিন বিরতি দিয়ে ১৯৮৫ সালে আবার ইউকসু থেকে একুশে সংকলন বের হয়েছিল। আবুল হাসনাত ভাই ছিলেন শহিদ স্মৃতি হলের নির্বাচিত ভিপি তাই পদাধিকারবলে ইউকসুর কেন্দ্রীয় কমিটির সদস্য,বহুদিন নির্বাচন না হওয়ায় ইয়ুকসুর প্রায় সব পদই তখন শুন্য, তাই স্বাভাবিক ভাবেই ইউকসুর একুশে সংকলনের সম্পাদকের দ্বায়িত্ব পরে হাসনাত ভাইয়ের উপর। তবে সংকলন নিয়ে তোড়জোড় আর দৌড়াদৌড়ি করতে যাকে বেশি দেখা যায় সে স্থাপত্য বিভাগের দ্বিতীয় বা তৃতীয় বর্ষের এক ছিপছিপে সুদর্শন যুবক,নাম এনামুল করিম নির্ঝর। সংকলনের প্রচ্ছদ,অলংকরণ, ইলাস্ট্রেশন, নান্দনিক সব কাজসহ ছাপার পুরো কাজ সবই নির্ঝরের করা।তার সংগে আছে আরো দুইজন, বাংলা সাহিত্য প্রায় গুলে খাওয়া পুরান ঢাকার ছেলে মোটাসোটা জাকি (বর্তমানে যুক্তরাষ্ট্র প্রবাসী) আর খন্দকার তাজুদ্দিন। দু জনই স্থাপত্যে আমাদের এক বছরের জুনিয়র। বেশ কয়েক বছর আগে তাজুদ্দিন আমাদের ছেড়ে না ফেরার দেশে চলে গেছে।

“কিছুই বুঝতে পারছিনা রে “…….এই কথা বলে বলে নির্ঝর সব কিছুই বুঝতো।আমাকে দিয়ে সে অনায়াসে এমন অনেক কাজ করিয়ে নিতো যা আমি জীবনে চিন্তাও করি নাই………সেই রায়ের বাজার থেকে নির্দিষ্ট ব্যাসার্ধের পুরানো আধা ভাংগা গরুর গাড়ির চাকা এনে তার উপর পদ্মার চর থেকে নির্ঝরের কুড়িয়ে আনা মহিষের মাথার কংকাল কাত করে সেট করে নিচ থেকে লাইট মেরে জীবনে প্রথম নাটকের সেট ডিজাইন থেকে শুরু করে অভিনেতাদের লাল নীল মেক-আপ আর গোফ দাড়ি লাগিয়ে তাদের ক্যারেক্টার ফুটিয়ে তোলা।এইসব সম্ভব/অসম্ভব কাজ/অকাজের লিস্ট অনেক বড়। নির্ঝর ছিল তিতুমীর হলে আমার প্রথম রুমমেট। অন্য দুজন ছিল মাসুদ খান আর আমার মির্জাপুর ক্যাডেট কলেজের বাল্যবন্ধু মিনহাজ। এ রুমে বসেই নির্ঝরের প্রেরণায় সে সময়ই আমারা চিহ্ন নামে একটা সাংস্কৃতিক সংগঠন গড়ে তোলার পরিকল্পনা করি, চিহ্ন নামটা আমার দেয়া তবে বাকি কাজ বেশিরভাগই নির্ঝরের পরিকল্পনা। পরে এই সংগঠনটি অনেক বড় সংগঠনে পরিনত হয়,আমাদের প্রায় সব বন্ধুরা ও পরের বছর অনেক সংখ্যক জুনিয়ররা এতে যোগ দেয়। আরো অনেক আছে সব কিছু এখানে লেখা যাবে না। ওর গল্প লিখতে গেলে অনেক সময় লাগবে।আপাতত সেটা বাদ থাক, প্রসংগে ফিরে আসি। এবার সে বললো, তাড়াতাড়ি একটা লেখা দে ,বুয়েট একুশে সংকলনের জন্য লেখা চাই,জলদি। নির্ঝরের প্রায় সব কাজই ‘জলদি’,বিশেষ করে সৃষ্টশীল কাজ আরো বেশি ‘জলদি’।যতদূর জানি তার ‘জলদি’ ভাব এখনো চলছে,সমান তালে।

আমি যে সময়ের কথা বলছি তখন স্বৈরাচার বিরোধী আন্দোলন তুঙ্গে, ক্লাশের চেয়ে মিছিল আর মধুর ক্যানটিনেই আমাদের বেশি সময় কাটে। হাসনাত ভাই বুয়েটে ছাত্র সংগ্রাম পরিষদের প্রধান নেতা, বিশ্ববিদ্যালয় জাসদ ছাত্রলীগের সভাপতি আবার এবং কেন্দ্রীয় জাসদ ছাত্রলীগের তথ্য ও গবেষণা সম্পাদক।,ফৌজদারহাট ক্যাডেট কলেজের প্রাক্তন ছাত্র,প্রচন্ড মেধাবী আর মোহনীয় ব্যাক্তিত্বের অধিকারী। আমার সমগ্র জীবনে এমন বিশাল পঠনপাঠনে সম্মৃদ্ধ কিন্তু বিনয়ী আর witty মানুষ আমি কম দেখেছি। আমিও তার দল করি, আমি তখন জাসদ ছাত্রলীগ বুয়েটে শাখার সাংগঠনিক সম্পাদক।

হাসনাত ভাই ছিলেন জাতীয় টেলিভিশন বিতর্কে চ্যাম্পিয়ন দল (১৯৮২-৮৪) শহীদ স্মৃতি হল দলের অন্যতম সদস্য,বাকি অন্য দুই সদস্য ছিলেন আব্দুল্লা নোমান ভাই,তিনিও ছিলেন জাসদ ছাত্রলীগের অন্যতম কেন্দ্রীয় নেতা আর আহমদ শহিদ ভাই,তিনি ছিলেন ছাত্র ফরামের প্রধান নেতা ও তাত্বিক গুরু (বর্তমানে যুক্তরাস্ট্র প্রবাসী)। রানারআপ হয়েছিল হলিক্রস কলেজ। BGMEA এর বর্তমান সভাপতি রুবানা হক ছিলেন সেই রানার আপ দলের সদস্য। হাসনাত ভাই ব্যাক্তিগত ভাবেও শ্রেষ্ঠ বক্তা হয়েছিলেন। তার বক্তব্যের টপিকটি ছিল অভিনব……”ধরা যাক প্রথম একক বিশ্ব সরকার প্রতিষ্ঠিত হয়েছে আর আপনাকে করা হয়েছে তার প্রধান,তখন আপনার প্রধান কাজ কি হবে?”। হাসনাত ভাইয়ের উত্তরও নাকি ছিল আরো আভিনব, তিনি ম্যারম্যারা কোন বক্তব্যের মধ্য দিয়ে গেলেন না, সবাইকে চমকে দিয়ে তিনি দৃঢ় আর জোড়ালো কন্ঠে বললেন তার প্রথম কাজ হবে যুদ্ধ করা……হাজার বছরের পুঞ্জিভূত অন্যায়,অত্যাচার আর শোষনে কাঠামোকে চিরতরে ভেংগে মুচড়ে গুড়িয়ে দিয়ে বিশাল যুদ্ধের আয়োজন করা যেন পৃথিবীতে চিরস্থায়ী সাম্য আর শান্তি ফিরে আসে, শোষনহীন সমাজ,শোষণহীন বিশ্ব ব্যাবস্থা প্রতিষ্ঠিত হয়। মনে আছে হাসনাত ভাইয়ের মাধমেই আমি হেলাল হাফিজের সে বিখ্যাত কবিতাটি প্রথম শুনি,

এখন যৌবন যার মিছিলে যাবার তার শ্রেষ্ঠ সময়
এখন যৌবন যার যুদ্ধে যাবার তার শ্রেষ্ঠ সময়

কবিতা শুধু মুখেই নয়, আমাদের কয়েকজনের শার্টের পকেটের উপর ছোট অক্ষরে এই লাইন দুটো লাল কালিতে লিখার ব্যাবস্থা তিনি করছিলেন, আমরা বুক ফুলিয়ে কবিতা লেখা শার্ট পরে ঘুড়ে বেড়াতাম।

মিছিল শেষে ক্লান্ত হয়ে নজরুল হল ক্যানটিনে আমরা রাত একটা দেড়টা পর্যন্ত আড্ডা দিতাম,সে আড্ডায় কেন্দ্রীয় ছাত্র সংগ্রাম পরিষদের অনেক তারকা নেতারাই থাকতেন, যেমন ডাঃ মুস্তাক (বর্তমানে IEDCR এর প্রধান উপদেষ্টা), শিরিন আপা (বর্তমান এম পি), নাজমুল হক প্রধান (প্রাক্তন এম পি), মাহফুজ ভাই ( স্থপতি,বর্তমানে পোল্যান্ডে বাংলাদেশের রাস্ট্রদূত),এনামুল ভাই (বুয়েটের সবচেয়ে সুদর্শন, সাহসী আর জনপ্রিয় ছাত্রনেতা),আব্দুল্লা নোমান ভাই (বর্তমানে PDB এর প্রধান প্রকৌশলী),স্থাপত্যের ছাত্র হাবিব (বর্তমানে বেলজিয়াম প্রবাসী),ভুবন বিখ্যাত মঞ্জুর কাদের হেমায়েতুদ্দীন ভাই,আরো কত নাম,নাম বলে শেষ করা যাবেনা। স্থাপত্যের ছাত্র ছাত্রদলের প্রধান নেতা মাসুদও খান থাকতো প্রায়ই। মতাদর্শগত পার্থক্য থাকলেও তখন বিভিন্ন দল ও মতের ছাত্রদের মধ্যে সম্পর্ক ছিল অত্যন্ত আন্তরিক ও সৌহার্দ্যপূর্ন। এক টেবিলে অতি বাম,সাধারন বাম,ডানপন্থীরা বা পন্থীহীনরাও আডডা দিতো গভীর রাত পর্যন্ত।এরকম আড্ডার এক ফাকেই হাসনাত ভাই বললেন, একটা লেখা দিও কিন্তু একুশে সংকলনে, হাসনাত ভাইয়ের কথা মানেই আমাদের কাছে ছিল আদেশ।

তখন এরশাদ ভ্যাকেশন নামে এক মজার বস্তু ছিল। আন্দোলন যখন তুঙ্গে উঠতো তখন হঠাৎ হঠাৎ সকল বিশ্ববিদ্যালয়গুলো অনির্দিষ্টকালের জন্য বন্ধ করে দেয়া হোত।রাস্তায় জলপাই রঙের মিলিটারি নামিয়ে দেয়া হোত। ভ্যাকেশনের সময় যেমন স্কুলে হোমওয়ার্ক দেয় হাসনাত ভাইও আমাকে তেমন হোমোয়ার্ক দিতেন।একটা কাগজে ২০/৩০টা শ্লোগান লিখে দিতেন হাতে লেখা পোস্টার তৈরির জন্য, আমি নানা রঙের পোস্টার পেপার কিনে কালো আর্টলাইন মার্কার দিয়ে শত শত পোস্টার লিখে রাখতাম, বিশ্ববিদ্যালয় খোলার প্রথম রাতেই টিনের বালতিতে গরম আটার আঠা দিয়ে আমরা দেয়াল কে দেয়াল ভরিয়ে দিতাম সেই সব পোস্টারে।সে সব স্লোগানে অনেক সুন্দর সুন্দর কবিতাও থাকতো।

অনেক দেরীতে হলেও নির্ঝরের হাতে ছোট্ট একটা কবিতা দিলাম সংকলনের জন্য। কিন্তু লেখা প্রেসে যাবার দুদিন আগে আমি গ্রেফতার হয়ে গেলাম ছাত্র সংগ্রাম পরিষদের আরো কয়েকজন নেতাদের সাথে। ছাত্র গ্রেফতারের প্রতিবাদে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়, বুয়েট তখন অগ্নিকুণ্ড, পলাশির মোড়ে দেদারসে গাড়ি,ট্রাক পুড়ছে, ভিসির বাসা ঘেরাও করেছে ছাত্ররা। নির্ঝর আগুন বা ঘেড়াওয়ের মতো ঝামেলার কাজের মধ্যে গেলোনা, সে প্রতিবাদ করলো অন্য ভাবে,সে আমার কবিতাটা তিন নম্বর সিরিয়াল থেকে এক নম্বরে নিয়ে এলো। পূর্বপরিকল্পনা অনুযায়ী স্বভাবতই সিরিয়ালে প্রথম ছিল সকলের শ্রদ্ধেয় অগ্রজ খসরু ভাইয়ের কবিতা (বিখ্যাত আবৃত্তিকার ও বর্তমানে সুন্দরবন বিশেষজ্ঞ), দ্বিতীয় স্থানে ছিল বন্ধু মোজাম্মেল বাবুর কবিতা, বাবুর কবি খ্যাতি তখন বেশ উচু, অলরেডি সে “কিশোরীর ঠোঁটে সূর্যাস্ত” নামে একটা কবিতার বই বের করে ফেলেছে।

আজ হাসনাত ভাই বেচে নেই। কয়েক বছর আগে ক্যান্সারে আক্রান্ত হয়ে হাসনাত ভাই মারা গেছেন। অসুস্থ হাসনাত ভাইকে সিংগাপুর নিয়ে যাবার দিন রাতে তার বাসায় গিয়েছিলাম শেষ বার দেখতে। হাসনাত ভাইকে দেখতে যাবার দিন ঘটনাক্রমে শিল্পী মৃনাল হক ছিল আমার অফিসে, কথায় কথায় আমি তাকে হাসনাত ভাইয়ের কথা বললাম।সে হাইকোর্টের মাজার খ্যাত হজরত খাজা শরফুদ্দিন চিশতীর(রাঃ) পরম ভক্ত।শরফুদ্দিন চিশতীর(রাঃ) দ্বাদশ শতাব্দীর বিখ্যাত সুফি সাধক আজমিরের খাজা ময়নুদ্দিন চিশতীর (রাঃ) দ্বিতীয় সন্তান। মৃনাল হক নিয়মিত আমাকে সুফীতত্ব নিয়ে অনেক আলৌকিক গল্প কাহিনী বলতেন, সুফী তত্বের গুঢ় রহস্য না বুঝলেও তার জীবন বদলে দেওয়া নানা অলৌকিক কাহিনী আমি অনেক আগ্রহ নিয়ে শুনতাম। সে আমাকে এক বোতল পানি পড়া এনে দিল।বললো, এটা ওনাকে খাওয়াবেন, আমি ডুবন্ত মানুষের মতো যা পাই তা ই আকড়ে ধরি, যে করেই হোক আমার প্রিয় হাসনাত ভাইকে বাচাতে হবে, আমি দেড় লিটার মামের বোতলে পানি পড়া নিয়ে অনেকটা ঘোরের মধ্যে হাসনাত ভাইয়ের ধানমণ্ডির ফ্ল্যাটে হাজির হই।

যার কাছে আমি মার্ক্স লেনিন, বিনয় ঘোষ পড়তে শিখেছি, দ্বান্দ্বিক বস্তুবাদ নিয়ে বিতর্ক করেছি, যিনি আমাকে লুকিয়ে Lawrence Lifschultz এর “Bangladesh: The Unfinished Revolution” (তখন নিষিদ্ধ ছিল) এর ফটোকপি পড়তে দিতেন আজ আমি তার কাছে গিয়েছি প্লাস্টিকের বোতল ভর্তি পানি পড়া নিয়ে। সে রাতে হাসনাত ভাইকে বিদায় জানিয়ে যখন ফিরে আসি তখন অনেক কস্টে চোখের পানি লুকাচ্ছিলাম, হাসনাত ভাইও একই চেস্টা করছিলেন। আমরা কেউ কাউকে চোখের পানি দেখাতে চাইনি বোধ হয়। পুরুষেরা সাধারণত নিজেদের চোখের পানি দেখানো পছন্দ করে না,পুরুষেরা স্মার্টলি দুঃখ লুকাতে জানে।বের হয়ে যেতে যেতে আমি যখন শেষবার পেছনে তাকাচ্ছি হাসনাত ভাই আমাকে তখন আশ্বাস দিয়ে বললেল……” আমি তোমার পানি পড়া খাবো,চিন্তা করো না……তবে এতোখানি পানি আমি খাবো কিভাবে?”

আমি বললাম, পুরাটা একবারে খেতে হবে না, আস্তে আস্তে সিংগাপুর গিয়ে খেয়েন।

আমি জানিনা হাসনাত ভাই সেই পানি পড়া খেয়েছিলেন কিনা। আমরা হাসনাত ভাইকে বাঁচাতে পারিনি।

আমরা আসলে কাউকেই বাচাতে পারিনা।

শেষবার হাসনাত ভাইয়ের সাথে দেখা হয়, গুলশান আজাদ মসজিদে, তার জানাজায়,সূর্য তখন প্রায় ডুবুডুবু।অপরূপ সুন্দর এক আলোর আভায় ভরে গেছে চারিদিক। এ আলোকে বলে ‘কনে দেখা আলো’,এ সময় প্রকৃতি অদ্ভুত সুন্দর এক আলোয় সারা পৃথিবীকে মাতিয়ে রাখে,আমরা ঘোর লাগার সেই মায়াবী আলোর মধ্যে হাসনাত ভাইকে হারিয়ে ফেললাম।

হাসনাত ভাই একুশে সংকলনের নাম রেখেছিলেন ‘পতিত সুবাস’ কিন্তু সারা জীবন তিনি আমাদের জন্য ছিলেন “সুবাসিত হাসনাত ভাই”, ফুলের সুবাসের মতই আমাদের আন্দোলিত করেছিলেন “জীবনের মুক্তির আর সুন্দরের নেশায়”।

**এখানে যাদের যাদের নাম উল্লেখিত হয়েছে তাদের প্রায় সবাইকে নিয়েই এরকম অনেক লেখার মতো হাজারো ঘটনা আছে,এ কিস্তিতে সে সবের উল্লেখ করলাম না।

আরও পড়ুন