একটা মৃত গাছের গোড়া খুঁড়ে খুঁড়ে এই বিশাল শেকড়টা আমি বের করেছিলাম বছরখানেক আগে। আজ সেই শেকড় দিয়ে তৈরি করলাম এই ভাস্কর্য। এই ভাস্কর্যের ভাস্কর আমি নই, এর ভাস্কর তিনি।
মৃত্তিকার অন্ধকার গভীরে বৃক্ষের যে শেকড় থাকে, যাকে কেউ দেখে না কোন দিন, এমনকি বৃক্ষও তার সারা জীবনে তাকে দেখতে পায় না একটিবারের জন্যও । অপার বিস্ময়ে লক্ষ করি, পরমতম সেই শিল্পী অন্ধকার শেকড়ের গঠনেও সৌন্দর্যসৌষ্ঠব ঢেলে দিতে কার্পণ্য করেন না বিন্দুমাত্র।
মহাবিশ্বের কোনায় কোনায় তিনি সীমাহীন এ সৌন্দর্যরাশি কার জন্য সাজিয়ে রেখেছেন—কখনো প্রকাশ্যে, কখনো অপ্রকাশ্যে! এ জন্যই হয়তো সুফিরা বলেন, ‘মানুষকে সৃষ্টি করা হয়েছে শুধুমাত্র সৃষ্টির সৌন্দর্যে অবগাহন করে নিজেকে বিলীন করে দেবার জন্য।’
ভাস্কর্য স্থাপন করেছি যে জলাধারে, সেই জলাধারটি ছিল একদা আমার মায়ের খুব শখের খামারের গবাদি পশুর পানি খাওয়ার হাউস। পানিই জীবন, আর জীবনই মা। স্মৃতির মেঘমালায় মা ও পানি এখানে একাকার হয়ে গেছে, মাঝখানে দাঁড়িয়ে আছে শেকড়ের শৈল্পিক অবয়ব ।
২৯ ডিসেম্বর, ২০২০