ওকে
প্রায়শই মনে হয়,
অসীম দীর্ঘ একটা ধূসর করিডর ধরে আমি একা একা হাঁটছি,
আমার বাঁয়ে মেঝে থেকে ছাদ অব্দি অন্তহীন জানালা,
ডানে কংক্রিটের স্তব্ধ দেয়াল,
আর সামনে কুয়াশার মতো গুছ গুচ্ছ জমাটবদ্ধ ধূসর অন্ধকার।
যদিও কাচের জানালা গলে ভেজা মেঘের মতো শুভ্র আলো
ভেসে ভেসে এসে ছুঁয়ে যেতে চাচ্ছে আমার বিষণ্ন শরীর,
কিন্তু কংক্রিটের নিরেট দেয়াল সবটুকু আলো
একাই শুষে নিচ্ছে।
জানালার পাশেই কী আশ্চর্য সবুজ ঘাস ভর্তি অলৌকিক মাঠ,
আর মাঠ পেরোলেই
প্রাচীন ভূমিতে বনবাসী পাখির ব্যাকুল ডাক শোনা যাচ্ছে।
আমি রঙিন ডানার সেই পাখি দেখার জন্য অস্থির হয়ে উঠি,
কিন্তু এই জানালার গ্রিলে কোনো পাখি এসে বসে না।
তবে আমি ইচ্ছে করলেই,
এই জানালা পেরিয়ে চলে যেতে পারি ওই নরম সবুজ মাঠে,
নিটোল তাজা শিশিরে ডুবিয়ে নিতে পারি আমার নগ্ন দুটো পা।
আমি ইচ্ছে করলেই,
বনভূমির প্রলম্বিত ছায়ায় রঙিন ওই সব পাখির পড়শি হতে পারি, অথবা বনের তামাম বৃক্ষের মতো আমার বিস্তৃত শেকড় ছড়িয়ে দিতে পারি মাটির গভীর থেকে গভীরে।
আমি ইচ্ছে করলেই,
ওই ভেজা শুভ্র আলোয়
ধুয়ে নিতে পারি আমার সকল রুদ্ধ মনস্তাপ।
এবং আমি ইচ্ছে করলেই এই মুমূর্ষু করিডরকে সম্পূর্ণ অস্বীকার করে আমার জন্য তৈরি করতে পারি
নতুন কোনো সুখী চিত্রনাট্য।
কিন্তু আমি এসবের কিছুই করি না,
বরং আমার দু’পা যান্ত্রিক খসখস শব্দে কুয়াশামাখা
অস্পষ্ট করিডর ধরে ক্রমশ জম্বির মতো এগিয়ে যায়।
অমন জাদুগ্রস্ত আলোকিত জানালা,
অমন তাজা শিশিরসিক্ত ঘাসের মাঠ,
অমন শ্যামল ছায়াময় গহন বনভূমি,
আর অমন ব্যাকুল করা সংসারী পাখির ডাক,
সব কিছুই কেমন অনিবার্য উপেক্ষা করে
স্তব্ধ কংক্রিট দেয়ালে শুধুমাত্র দু-পাল্লার একটা অচিন দরোজা
খুলবো বলে আমাকেই আমি হেঁটে যেতে দেখছি সেই কতোকাল।
মাহফুজুল হক জগলুল
১৫ এপ্রিল, ২০২২