হালিম ওস্তার ঘর

গ্রাম-চরেরবাড়ি, কলাখালী ইউনিয়ন, পিরোজপুর

বাপ-দাদার বংশানুসৃত পেশা ছিল খৎনা করানো, স্থানীয় ভাষায় এই পেশাকে বলে ‘ওস্তা’। এখন এই পেশা ডাক্তারদের দখলে। তবে তার নাম জিজ্ঞেস করলে সে বলবে, তার নাম ‘হালিম ডাক্তার’, ‘ওস্তা’ সে বলবে না। এই পেশার লোকরা আমাদের অঞ্চলে নিজেদের নামের সঙ্গে ‘ডাক্তার’ পদবি ব্যবহার করে। ওদের পাড়ার নাম ‘ওস্তাপাড়া’; কিন্তু ওরা বলে ‘ডাক্তারপাড়া’। প্রথম প্রথম আমি খুব অবাক হতাম, ভাঙা ঘর, খালি গায়ে ছেঁড়া লুঙ্গি পরা; কিন্তু নামখানা জবরদস্ত… হেমায়েত ডাক্তার, জুবায়ের ডাক্তার ইত্যাদি। আমি খুব কনফিউজড হয়ে যেতাম, ডাক্তার সাহেবদের বৈষয়িক অবস্থা এতো করুণ কেন, পরে বুঝেছি এরা কোন তরিকার ‘ডাক্তার’।

ডাক্তার সাহেবের বর্তমান পেশা কালীগঙ্গা নদীতে মাছ ধরা। কখনো কখনো মাছ ধরতে সে সুন্দরবনেও যায়। সরকারিভাবে যখন মাছ ধরা নিষিদ্ধ থাকে তখন ভ্যান চালায়। এক শিশুপুত্র আর এক শিশুকন্যা আর স্ত্রীকে নিয়ে তার কষ্টের সংসার।

ঘরের চেহারা দেখেই তার আর্থিক অবস্থার আন্দাজ পাওয়া যায়। ঘরের দেয়াল তৈরি স্থানীয় হোগলা পাতা আর বাঁশের চটির ফ্রেমিং দিয়ে। মাথার ওপর ধানের নাড়ার ছাউনি। নাড়ার দাম এখন অনেক বেশি। তাই পচে যাওয়া নাড়ার ওপর পাতলা পলিথিনের পর্দা দিয়ে বৃষ্টি থেকে বাঁচার চেষ্টা। ঘরের ফ্লোর নির্ভেজাল মাটির তৈরি। এরা ঘরের ভেতরে মেঝেতে ঘুমায়, জীবনে কোনো দিন খাট বা চৌকিতে ঘুমায়নি। গরমের দিনে হোগলা পাতার পাটি পেতে ঘুমায়, শীতল মাটির মেঝেতে গরম অনেক কম লাগে, খুব আরামের ঘুম হয়। সমস্যা একটাই, রাতে ঘরে অনায়াসে সাপ ঢোকে। মেছো সাপ নয়, দক্ষিণাঞ্চলের বিখ্যাত বিষাক্ত গোখরো সাপ, গ্রামের লোকেরা বলে ‘জাতি সাপ’।

আরও পড়ুন