জ্যোৎস্নার দাগ

জ্যোৎস্নার দাগ

ভোরের রোদ হঠাৎ রুমে ঢুকে বেহায়ার মতো মুছে দিলো
গত রাতের এলোমেলো জোৎস্নার ডাগর সকল দাগাদাগি
কর্মব্যস্ত ভোরের রোদেলা শোরগোল এমন একটা
মেকি ভাব ধরেছে যেন এখানে জোৎস্নার কোনো
স্মৃতিই ছিল না কোনো দিন,
পরম লজ্জায় অপ্রস্তুত জ্যোৎস্না শেষমেশ
আশ্রয় নিয়েছে আমার রোদচটা জামার ছোট্ট বুকপকেটে।
দিনের আলোতেও এখন জ্বলজ্বল করছে
হৃৎপিণ্ডের ঠিক ওপর আমার চৌকোনা বুকপকেট।
বুকের মধ্যে জলজ্যান্ত জ্যোৎস্না নিয়ে
লোকালয়ে ঘুরতে ঘুরতে বেশ বুঝতে পারছি
আমি নিজেও এখন ওর চেয়ে অনেক বেশি অপ্রস্তুত।
কখন সন্ধ্যা নামবে,
চাঁদ ফিরে আসবে আবার চিলেকোঠার জানালায়,
আমি প্রতীক্ষায় থাকি,
যখন খুব সঙ্গোপনে
নৈবেদ্য সমর্পণের মোহন ভঙ্গিমায়
দু’হাতে আলতো করে আমার পকেট থেকে বের করে
তন্দ্রাক্লান্ত জ্যোৎস্নাকে আবারও ছড়িয়ে দেবো
আমার জানালার অভিমানী পর্দায়,
আমার ঘরের অবারিত দুঃখী দেয়ালে,
আমার বিছানার জোড়া বালিশের স্বপ্নছোঁয়া গহিন কারুকাজে।
চটা রোদ বোঝে না,
নিরাশ্রয় জ্যোৎস্নার দাগ মুছে দিতে নেই কখনো
কেননা রাগী রোদের চেয়ে জ্যোৎস্নার নম্র দাগ
প্রবেশ করে গভীর থেকে আরো অনেক গভীরে।

৫ জুলাই, ২০২১

আরও পড়ুন