উলানবাটোর শহর পেরিয়ে একটা ছড়ানো-ছিটানো শিল্পাঞ্চল অতিক্রম করে আমাদের ট্যুরিস্ট বাস তখন চলছে। দুই পাশেই অনেক উঁচু চিমনি দেখতে পাচ্ছিলাম। সেখান থেকে গাঢ় কালো ধোঁয়া উলানবাটোর শহরতলির উজ্জ্বল নীল মঙ্গোলীয় আকাশে ছড়িয়ে যাচ্ছিল। মঙ্গোলিয়া নিয়ে মনের মধ্যে বাল্যকাল থেকে যে ছবি এঁকে রেখেছি, তার সঙ্গে পুরো জিনিসটা আমার কাছে কেন যেন খুব বেমানান লাগছিল। আমার মনে হচ্ছিল, মঙ্গোলিয়ার আকাশে কেন কারখানার কালো ধোঁয়া থাকবে। আমার মনের মধ্যে আজন্মলালিত যে মঙ্গোলিয়া সেটা তো বিশুদ্ধ নিসর্গের প্রতীক, শিল্প বিপ্লবের দূষণ কেন সেখানে হানা দেবে!
তবে কিছুক্ষণের মধ্যেই রাস্তার দুই দিকেই দেখতেপেলাম নমনীয় ঢালের বিস্তীর্ণ হালকা সবুজ তৃণভূমি। কিছু পরপর সাদা রঙের গোলাকার তাঁবু। প্রতিটি তাঁবু ঘিরে সামান্য কিছু মানুষ দেখা যাচ্ছে। এই গোলাকার তাঁবুগুলোকে ওদের ভাষায় বলে গের। আবার মঙ্গোলদের সঙ্গে যেহেতু তুর্কমেনিস্তান ও বর্তমান চীনের শিনজিয়াং অঞ্চলের উইঘুর জাতি এবং মধ্য এশিয়ার তুর্কি বংশোদ্ভূত জাতিগুলোর ভাষাগত অনেক আদান-প্রদান হয়েছে তাই তুর্কি শব্দ ইয়ুর্তও এ গেরের প্রতিশব্দ হিসেবে তারা ব্যবহার করে।
সত্যি কথা বলতে গেলে এই গেরই হলো মঙ্গোল জাতির জীবনাচরণের দ্বিতীয় গুরুত্বপূর্ণ উপাদান। প্রথম উপাদানটি হচ্ছে ঘোড়া। বর্তমান শহরে বসবাসকারী মঙ্গোলীয়রা আমাদের মতো যেসব ইট-পাথরের ভবনে বাস করে তাকেও ওরা গের বলে। মঙ্গোল সাম্রাজ্য ছিল মানব ইতিহাসের সবচেয়ে বড় অবিচ্ছেদ্য সাম্রাজ্য। বর্তমানের মঙ্গোলিয়া তো তাদের ছিলই।

এ ছাড়া পুব দিকে কোরিয়া, চীনের বিশাল ভূমি, উত্তরে সাইবেরিয়ার বিরাট অঞ্চল আর পশ্চিমে সমগ্র মধ্য এশিয়া, কৃষ্ণসাগর হয়ে তুরস্কের কিছু অঞ্চল, রাশিয়ার মস্কো, হাঙ্গেরি, জর্জিয়া, আর্মেনিয়া, বেলারুশ, অস্ট্রিয়া, ইউক্রেন, সার্বিয়া; অন্যদিকে দক্ষিণ-পশ্চিমে ইরাক, ইরান, সিরিয়া, লেবানন আর ওদিকে আফগানিস্তান, পাকিস্তান ও বার্মার কিছু অংশ—এই বিশাল এলাকা নিয়ে ছিল দুর্ধর্ষ মঙ্গোল সাম্রাজ্য। কিন্তু এতো বড়ো সাম্রাজ্যের অধিপতিরা বিশাল বিশাল রাজপ্রাসাদে বাস করতেন, এমন উল্লেখ ইতিহাসে খুবই কম। যুদ্ধবিগ্রহ আর অভিযানে ব্যস্ত মঙ্গোল সম্রাটদের জীবনের বেশির ভাগ সময়ই কেটে যেতো এমন সব অস্থায়ী ছোট ছোট গেরকে কেন্দ্র করে। তবে বাসে বসে আমরা যেসব গের দেখছিলাম সেগুলো ছিল প্রধানত উলানবাটোর শহরের নাগরিকদের অবকাশযাপনের জন্য নিজস্ব গের। আমাদের দেশে যেমন মানুষের গ্রামাঞ্চলে বাগানবাড়ি থাকে, নগরে বসবাসকারী মঙ্গোলীয়দের তেমন থাকে নিজস্ব ছোট্ট কিছু তৃণভূমি আর তার এক কোনায় একটা সাদা গোলাকার গের। আসলে বহু বছর ধরে নগরে বসবাসকারী আধুনিক মঙ্গোলীয়দের রক্তধারা থেকে আজও সম্পূর্ণভাবে মুছে যায়নি তাদের যাযাবর পূর্বপুরুষদের জীবনাচরণের অভ্যাসগুলো। তাই বছরে কিছুদিন গেরে বাস না করে ওরা থাকতে পারে না।
এক ঘণ্টার একটু কম সময় পরে আমাদের ট্যুরিস্ট বাস বিশাল একটা বৃক্ষহীন ট্যুরিস্ট কমপ্লেক্সে এসে পৌঁছালো। বিশাল তৃণভূমির ওপর বড়ো অনেক গের আর ছোট ছোট রঙিন তাঁবু দিয়ে সাজানো হয়েছে কমপ্লেক্সটি। গেরগুলোর মধ্যে কিছুটা দূরে একটা গের বেশ বড়ো,
ওটা একটা বিরাট ব্যাংকোয়েট হল, শাতাধিক লোক বসে ওখানে যেকোনো অনুষ্ঠান করতে পারে। ট্যুরিস্ট কমপ্লেক্সের পশ্চিম দিকেই কিছু পাহাড়ের সারি। সব মিলিয়ে খুব মনোরম পরিবেশ। কমপ্লেক্সের নাম হলো যথারীতি চেঙ্গিস খান প্যালেস ট্যুরিস্ট কমপ্লেক্স। মঙ্গোলিয়ার মাটিতে পা দেওয়ার পর মাত্র আট ঘণ্টা পার হয়েছে তখন, কিন্তু ততোক্ষণে বুঝে গেছি এ দেশে যেমন প্রধান এয়ারপোর্টের নাম চেঙ্গিস খান, এই ট্যুরিস্ট কমপ্লেক্সের নামও চেঙ্গিস খান, রাস্তার নামও চেঙ্গিস এভিনিউ আর নগরের সবচেয়ে বড় স্কয়ারের নাম চেঙ্গিস স্কয়ার। শুধু তাই নয়, এ দেশে ভদকা আর হুইস্কির নামও চেঙ্গিস খান, সিগারেট ব্র্যান্ডের নামও চেঙ্গিস খান, আবার জনপ্রিয় ক্যান্ডির নামও চেঙ্গিস খান। এবারে আর্কেশিয়ার নির্বাচনে প্রেসিডেন্ট পদে নির্বাচনে অংশগ্রহণকারী মঙ্গোলিয়ান স্থপতি বাতাজাভ বাতখুইয়াগেরও শুনেছি নিজের মদের কারখানা আছে, আর তার মদের ব্র্যান্ডের নামও চেঙ্গিস। প্রতিটি ভদকার বোতলের ওপর চেঙ্গিস খানের মুখমণ্ডল সুন্দর কালো রঙের স্কেচ করে আঁকা।
মেসিডোনিয়ার আলেকজান্ডার আর ফ্রান্সে নেপোলিয়ন ছিলেন তাঁদের নিজ নিজ দেশের মহানায়ক ও জাতীয় বীর; কিন্তু মঙ্গোলদের কাছে চেঙ্গিস খান অনেক বেশি কিছু। চেঙ্গিস খান এখনো মঙ্গোলীয়দের আকাশে যেন একমাত্র ধ্রুবতারা, মঙ্গোলদের আধ্যাত্মিক শক্তির অংশ। কারো কারো কাছে চেঙ্গিস খান তাদের দেবতা, কেননা মঙ্গোলরা হাজার বছর ধরেই খুব সম্মানের সঙ্গে তাদের পূর্বপুরুষদের পূজা করতে অভ্যস্ত। চেঙ্গিস খান তাই তাদের কাছে যেমন জাতীর গর্ব, তেমনি একক একজন মঙ্গোলীয় ব্যক্তির একদম একান্ত নিজস্ব গর্ব। এই একবিংশ শতাব্দীতেও মঙ্গোল জাতির অস্তিত্ব আর আত্মপরিচয়ের একদম কেন্দ্রবিন্দুতে চেঙ্গিস খানের অবস্থান। দীর্ঘ আটষট্টি বছর কমিউনিস্ট শাসনের সময় চেঙ্গিস খানের নাম নেওয়া সম্পূর্ণ বারণ ছিল। স্কুল-কলেজের সব টেক্সট বুক থেকে চেঙ্গিস খানের নাম মুছে দেওয়া হয়েছিল। কমিউনিস্ট তাত্ত্বিকরা চেঙ্গিস খানকে চিত্রিত করেছিলেন ইতিহাসের প্রতিক্রিয়াশীল চরিত্র হিসেবে। এই দীর্ঘ আটষট্টি বছরে প্রায় সাতটা প্রজন্ম পার হয়ে গেছে; কিন্তু মঙ্গোল জাতির অন্তর থেকে চেঙ্গিস খানকে মুছে দেওয়া যায়নি। চেঙ্গিস খান আগের চেয়ে অনেক বেশি শক্তিশালী হয়ে আবার তাদের কাছে ফিরে এসেছেন।
চেঙ্গিস খান কমপ্লেক্সে বাস থেকে নেমে অভ্যর্থনা তাঁবুর কাছে যেতে যেতেই সূর্য পাহাড়ের ওপাশে চলে গেলো আর সঙ্গে সঙ্গে ঝুপ করে পাহাড়ি অন্ধকার নেমে এলো আর সেইসঙ্গে শুরু হলো প্রচণ্ড হিমেল বাতাস আর হাড় কাঁপানো শীত। আয়োজকরা যদি এক ঘণ্টা আগে এখানেআনতো তাহলে জায়গাটা এবং পরের অনুষ্ঠানগুলো অনেক বেশি উপভোগ করা যেতো। তবে সেটা নিয়ে কোনো উচ্চবাচ্য করলাম না, কেননা মঙ্গোলিয়ায় আসার পর প্রথম শিক্ষা হচ্ছে মঙ্গোলিয়ানদের সঙ্গে কোনো বিষয়ে তর্ক করতে নেই।
আমাদের জানানো হলো, মঙ্গোলিয়ান ইউনিয়ন অব আর্কিটেক্টস আমাদের জন্য এখানে মিনি নাদামের আয়োজন করেছে। মিনি নাদাম বোঝার আগে বুঝতে হবে ‘ম্যাক্সিমাম নাদাম’ কী বস্তু। তবে সে ব্যাপারে পরে বলছি, আগে এখানে আমাদের জন্য যেভাবে মঙ্গোলীয় ঐতিহ্যবাহী কায়দায় অভ্যর্থনা ও খানাপিনার ব্যবস্থা করা হয়েছিল তার একটা সংক্ষিপ্ত বর্ণনা দিয়ে নিই।
অভ্যর্থনা তাঁবুতে যে জিনিসটা আমাকে প্রথমেই সবচেয়ে বেশি আকর্ষিত করেছিল সেটা হচ্ছে ঐতিহ্যবাহী মঙ্গোলীয় আইরাগ পানের ব্যবস্থা। মঙ্গোলিয়া নিয়ে জীবনে যতো বই পড়েছি আর যতো ডকুমেন্টারি দেখেছি, সবখানেই মাদী ঘোড়ার দুধ ছেঁকে নিয়ে তা গরুর চামড়ার বস্তার মধ্যে ভরে দীর্ঘ সময় ফারমেন্টেশন করে ঐতিহ্যবাহী পদ্ধতিতে বানানো এই মঙ্গোলীয় পানীয় আইরাগের জোরালো উল্লেখ দেখেছি। তাই জীবনে প্রথম সেই আইরাগ পানের সুযোগ পেয়ে এক ধরনের আবেগতাড়িত উত্তেজনা বোধ করতে লাগলাম। দেখলাম, বিরাট একটা তামার ড্যাগে সাদা রঙের গরুর দুধের চেয়ে ঘন আইরাগ রাখা আছে আর মঙ্গোলীয় জোব্বা ও অলংকার সজ্জিত এক মহিলা লম্বা হাতলের একটা চামচ দিয়ে আইরাগ উঠিয়ে একটা মাঝারি আকারের বাটিতে সবাইকে দিচ্ছে। আমিও সবার দেখাদেখি তার কাছ থেকে আধাবাটি আইরাগ নিলাম। আইরাগ পানটা বিশেষভাবে উপভোগ ও একই সঙ্গে স্মরণীয় করে রাখার জন্য বাটি নিয়ে আমি একটা নিরিবিলি কোনায় দাঁড়িয়ে বহু বছরের পুঞ্জীভূত বিস্ময় নিয়ে অনেকটা জীবনে প্রথম চুম্বনের প্রস্তুতির মতো থরথর আবেগে বাটিতে চুমুক দিলাম। কিন্তু চুমুক দিয়েই বুঝতে পারলাম এ বস্তু চরম অখাদ্য। কেমন যেন নোনতা আর আঁশটে গন্ধযুক্ত স্বাদহীন তরল। আমি ভাবলাম, কোথাও মনে হয় কোনো ভুল হচ্ছে। সারা জীবন যার
এতো নাম শুনলাম, তার স্বাদ তো এমন হতে পারে না। হয়তো প্রচণ্ড শীতে আমার মুখের টেস্ট গ্ল্যান্ডস থেকে কোনো ভুল সিগন্যাল আমার মস্তিষ্কে গেছে, অন্তত দ্বিতীয়বার টেস্ট করে দেখা উচিত। জীবনে এমন সুযোগ আর না আসার সম্ভাবনাই বেশি, তাই আমি চোখ বন্ধ করে দ্বিতীয়বার চেষ্টা করলাম। না, একই রকম বিস্বাদ। এরপর আর কী করা যায়, বাটিটা অনেকটা দ্রুত চোরের মতো সংগোপনে টেবিলের ওপর রেখে চট করে সরে এসে ভিড়ের মধ্যে মিশে গেলাম।
সেখানে এসে দেখি পাকিস্তান ইনস্টিটিউট অব আর্কিটেক্টসের প্রাক্তন সভাপতি ও করাচির ইন্দাস ভেলি স্কুল অব আর্ট আন্ড আর্কিটেকচারের একজিকিউটিভ কমিটির সদস্য বয়োজ্যেষ্ঠ স্থপতি শাহাব গনি খান ভাই দুই হাতে অনেক ছোট ছোট শক্ত সন্দেশ নিয়ে খাচ্ছেন আর কুস্তির লড়াই দেখছেন। আমার দিকে কয়েকটা সন্দেশ বাড়িয়ে দিয়ে খুব আদরের সঙ্গে বললেন,
খাও, ভেরি টেস্টি।
আমি এখন ঘরপোড়া গরু। অনেকটা সন্দেহের সঙ্গে শাহাব ভাইয়ের কাছ থেকে অপ্রস্তুতভাবে দুটো সন্দেশ নিলাম; কিন্তু মুখে দেওয়ার সাহস পাচ্ছিলাম না। আমার সন্দেহ হচ্ছিল, শাহাব ভাই হয়তো আমার মতো একই রকম বিপদে পরে তাঁর হাতে রক্ষিত রদ্দি মাল আমার কাছে পাচার করে ঝামেলামুক্ত হতে চাইছেন। শাহাব ভাই আবারও বললেন,
ট্রাই ইট, ট্রাই ইট, ভেরি টেস্টি।
শাহাব ভাইয়ের সঙ্গে আমার পরিচয় অনেক দিনের। পাকিস্তানি নাগরিক হলেও তিনি বিভিন্ন সময়ে ১৯৭১ নিয়ে আমার সঙ্গে দীর্ঘ খোলামেলা আলোচনা করেছেন এবং তিনি সুস্পষ্টভাবে আমাকে বলেছেন যে একাত্তরে পাকিস্তানরা এ দেশে যা করেছে তা মহা অপরাধ। এমন একজন মানুষকে তো কিছুটা বিশ্বাস করাই যায়, তাই তাঁর দেওয়া একটা সন্দেশ মুখে দিলাম। মুখে দিয়েই বুঝতে পারলাম, বাহ্, খুব সুন্দর তো খেতে। অনেকটা আমাদের হালকা মিষ্টি স্বাদের সন্দেশের মতোই, তবে কিছুটা শক্ত। ছোট ছোট নানা আকারের অনেকটা আমাদের বরিশাল অঞ্চলের ছানামুখী সন্দেশের মতো, একটা মুখে দিলে আর থামা যায় না। আমি আবার সেই খাবারের তাঁবুতে গিয়ে দুই হাত ভর্তি করে এই সন্দেশ নিয়ে এলাম আর বিশাল বিশাল মঙ্গোলীয় পালোয়ানের কুস্তি দেখতে দেখতে ওই জিনিস একটার পর একটা মুখে পুরতে লাগলাম। সত্যিই স্বাদে এটা ওই আইরাগের পুরো উল্টো, একেবারে অমৃতের স্বাদ। ওখানে উপস্থিত একজন মঙ্গোলীয় ভলান্টিয়ার, যে খুব সম্ভবত মঙ্গোলিয়ান ইউনিভার্সিটি অব সায়েন্স অ্যান্ড টেকনোলজির স্থাপত্যের ছাত্র, ওর কাছ থেকে জানলাম এগুলোই হচ্ছে আমার অনেক আগে বইয়ে পড়া সেই মঙ্গোলীয় সন্দেশ, যার নাম আরউল। পনির দইয়ের সঙ্গে চিনি আর কিছু বন্য ফল মিশিয়ে তারপর তাকে শুকিয়ে বিভিন্ন আকারে কেটে কেটে এই আরউল তৈরি করা হয়। এ ছাড়া ভলান্টিয়ারটি সেখানে আমাকে আর একটা হালুয়া ভাজা টাইপের মঙ্গোলীয় ঐতিহ্যবাহী খাবারের সঙ্গে পরিচয় করিয়ে দিলো, সেটার নাম বুর্তসগ। ময়দা, দুধ, মাখন, ডিম আর চিনি দিয়ে বরফির মতো বানিয়ে ফুটন্ত গরম তেলে ভেজে বুর্তসগ বানানো হয়। অনেকটা সুজির হালুয়া তেলে ভাজলে যেমন হয় বুর্তসগ অনেকটা সে রকম তেলেভাজা খাবার। এই একই খাবার আমাদের উপমহাদেশে ভাজা হলে হালুয়ার সঙ্গে নানা প্রকার মসলা, যেমন দারচিনি, এলাচি, তেজপাতা, কালিজিরা, লবঙ্গ, কিশমিশ, ঘিসহ অন্য অনেক উপাদান ব্যবহার করা হতো।
মঙ্গোলীয় সব খাবারেরই একটা সাধারণ বৈশিষ্ট্য হচ্ছে একদম কম অল্প মসলার ব্যবহার। পারলে কোনো মসলা না দিয়ে এরা রান্না করতো, সে কারণে আমাদের উপমহাদেশের অতিরিক্ত মসলাপ্রিয় জিহ্বায় ওদের খাবার একটু পানসে মনে হতে পারে, তবে যারা বিশেষ করে বিভিন্ন মঙ্গোলীয় মাংসের রেসেপি চেখেছে তারা জীবনেও এগুলোর স্বাদ ভুলবে না, এটা আমি হলফ করে বলতে পারি।
উলানবাটোর থেকে প্রায় তিনশ কিলোমিটার দূরে এলসেন তাসারখাই অঞ্চলে মঙ্গোলীয়রা ছোট গোবির কাছে রাতের খাবারে আমাকে প্রায় মসলামুক্ত স্টোন গ্রিল করা যে অপূর্ব স্বাদের ভেড়ার মাংস খাইয়েছিল তার স্বাদ আমি জীবনেও ভুলতে পারবো না। তেলেভাজা বুর্তসগের সঙ্গে আরো ছিল মঙ্গোলীয় ইয়াক বা গরুর দুধের কিছুটা নরম নরম বেশ নোনতা স্বাদের পনির। ওরা একে বলে বেয়াসলাগ। তবে মানতেই হবে ভয়াবহ আইরাগ অভিজ্ঞতার পরে বাকি সব খাবারই খুব উপভোগ্য ছিল। তবে সব কিছুর মধ্যে আরউলকে আমি একশর মধ্যে পঁচানব্বই দেবো।
মাহফুজুল হক জগলুল
১ অক্টোবর , ২০২২





