হেডলাইনের মালগাড়ি

একটার পর একটা আচমকা হেডলাইন ,
মালগাড়ির বগির মতো
ঘটরঘট, ঘটরঘট, ঘটরঘট,
নিরুদ্দেশ চলছেই চলছেই চলছে।
সাতচল্লিশ নম্বর বগিটা এই বুঝি গেলো,
এবার, আটচল্লিশ, ঊনপঞ্চাশ, পঞ্চাশ, একান্ন।
আজকাল ট্রেনগুলো এতো লম্বা হয়েছে;
বগির পর বগি, রঙের পর রঙ,
লালের পর নীল আসছে, নীলের পরে হলুদ,
তারপর,
হালকা সবুজ, এবার গাঢ় বেগুনি রঙের বগি।
একটা পার না হতেই পরের বগি চলে আসছে দৃষ্টির সীমান্তে,
পরাবাস্তব বোবা পশুর মতো গোঙাতে গোঙাতে
দ্রুত অদৃশ্য হয়ে যাচ্ছে এক অপার্থিব অন্ধকারে,
মনে হচ্ছে যেন চলমান এক অশরীরী ছায়াচিত্র দেখছি।
পথের পাশে খালি পায়ে দাঁড়িয়ে নিষ্পলক ক্লান্তিহীন উৎসাহে
সম্মোহিত আমি পোষমানা বগিগুলো গুনে চলি,
একশো একাত্তর, একশো নব্বই, দুইশো সতেরো ।
চলছেই চলছে,
ঘটরঘট, ঘটরঘট, ঘটরঘট।
দুইশো তিয়াত্তর, তিনশো এক, তিনশো দুই,
ঘটরঘট, ঘটরঘট, ঘটরঘট।
একসময় খবরের হেডলাইনটা ভুলে যাই,
ঘোরলাগা নেশাগ্রস্তের মতো মনে হয়ে
মালগাড়ি গোনাই আমার আজন্ম বরাত,
তিনশো আটাশ, উনত্রিশ, ত্রিশ, একত্রিশ
বত্রিশ।
নিজের অজান্তেই একসময় হঠাৎ অনুভব করি
মসৃণ ধাতব শব্দ ভেঙে ভেঙে আমিও চলছি,
আমার হার্টবিট শব্দ করছে ঘটরঘট, ঘটরঘট, ঘটরঘট।
মনে হয় যেন আমিও একটা মাতাল মালের বগি
যার মস্তিষ্কের নিউরনে এখন আর কোনো হেডলাইন জমা নেই,
শুধু,
ভূতুড়ে কোনো নামহীন স্টেশন বরাবর
টালমাটাল ধাতব চাকার ওপর চলছি নিরুদ্দেশ।
তবে,
হঠাৎ টিটি যদি গন্তব্য জিজ্ঞেস করে
সেই সংকোচে ঘোরের মধ্যেও আমি,
মাঝে মাঝে কিছুটা বিব্রত বোধ করছি।

১৯ মে, ২০২১

আরও পড়ুন