সে প্রার্থনা করছিল,
হে ঈশ্বর, তুমি আছো, কী নাই
আমি জানি না,
আমি বিশ্বাসী কি না
আমি তাও জানি না,
তবু আমি তোমার কাছেই প্রার্থনা করছি।
প্রার্থনা করছি,
আমি যেন শুধুই আমাকে নিয়ে তৃপ্ত না হই,
কখনো আমার সঙ্গে পরম কাউকে পেতে যেন ভীত না হই,
আমি যেন দুঃখকে পাশে নিয়ে বসতে পারি,
আমি এমন কোনো গাঢ় ধূসর কক্ষে থাকতে চাই না
যেখানে দুঃখ প্রবেশ করতে পারে না।
আমার আত্মা থেকে তুমি জ্ঞানের তৃপ্তি সরিয়ে দাও,
আমি এখন জানি,
মানুষের জ্ঞান তোমার কাছে নিছক শিশুর পাগলামি।
আমি জ্ঞানের পাগলামি চাই না,
তুমি আমাকে হাত ধরে নিয়ে যাও তোমার ভালোবাসার জগতে,
যেখানে চন্দ্র নেই, সূর্য নেই,
যেখানে বিন্দু বিন্দু তারা নেই আকাশে,
যেখানে পৃথিবীও নেই,
যেখানে গ্লাসভর্তি তরলের স্বাদ একদম ভিন্নতর,
আলতোভাবে আমার ওষ্ঠ যেখানে স্পর্শ করবে অমৃত,
যেখানে আমি হাঁটব কিন্তু পদক্ষেপ নেবো না,
যেখানে না তাকিয়েই আমি দেখবো শুদ্ধ সব দৃশ্যাবলি,
যেখানে আমি এমন একটি কবিতা লিখবো
যার শব্দ, কাগজ, কলম ও কালি হবো আমি নিজেই।
যেখানে স্বপ্ন ও সময় একই সুরে গান গাবে,
মাতাল হাওয়ায় হাওয়ায় যেখানে নেচে উঠবে সমগ্র চরাচর,
যে হাওয়ায় আমি ইচ্ছেমতো উড়বো কিন্তু তোমাকে
একবারও বলব না আমাকে দুটো ডানা দাও।
(পাওলো কোয়েলহোর উপন্যাসের অনুপ্রেরণায়)