তিনি বকুল ফুল খুব ভালোবাসতেন,
কিন্তু
তার হাতের তালুতে মুষ্টিবদ্ধ ছিল তাজা গ্রেনেড,
কেননা যারা সত্যিকার প্রেমিক
তাদের কখনো কখনো যুদ্ধে যেতে হয়।
সশস্ত্র যৌবনের সেই ঝাঁকড়া চুলের স্পর্ধিত ঝাপটায়
অপ্রয়োজনীয় কাগজের মতো হাওয়ায় উড়ে গেছে
কতো দামি দামি সোনালি সার্টিফিকেট ও সনদ,
সেদিকে তিনি ফিরেও তাকাননি।
ধূমায়িত কুয়াশার ওপার থেকে নগর গেরিলার মতো
সবার আগে তিনি ছুড়ে দিতেন সব বিস্ফোরিত উচ্চারণ।
কখনো যেন সরল শিশু,
কখনো ধ্যানী অভিযাত্রীর প্রজ্ঞাসিদ্ধ তাঁর শাণিত উচ্চারণে ছিন্নভিন্ন হয়ে যেতো চারদিকে লোভের যতো আয়োজন।
কিন্তু দরদি মানুষটির মুখে
আজ এই প্রথম বিস্ফোরিত কোনো শব্দ নেই,
তাঁর তীব্র চাহনিতে সেই বিস্মিত উত্তাপ নেই।
শোকস্তব্ধ পৃথিবী
তাই আজ তার প্রিয় সন্তানকে ফিরিয়ে নিতে এসেছে,
পরম মমতায় মায়ার চাদর দিয়ে সে ঢেকে দিয়েছে
তার গভীর প্রেমিক ও সাহসী সন্তানটির ঋজু দেহ।
মাহফুজুল হক জগলুল
২ ডিসেম্বর, ২০২২