কান্দির আধ্যাত্মিক কেন্দ্র শ্রী দালাদা মালিগাওয়া ও বিচ্ছিন্ন কিছু তুলনামূলক ধর্মতাত্ত্বিক ঝিঁঝি পোকার ডাক
শ্রীলঙ্কানরা বলে শ্রী দালাদা মালিগাওয়া, ইংরেজিতে বলে Temple of the Sacred Tooth Relic. শ্রীলঙ্কার প্রাচীন রাজধানী কান্দিতে অবস্থিত এ বৌদ্ধ মন্দিরে রয়েছে গৌতম বুদ্ধের একটি দাঁত। নির্দিষ্ট করে বলতে গেলে তাঁর একটি ছেদন দন্ত। যদিও দাঁতটি একটা কারুকার্যময় পাত্রের মধ্যে রাখা থাকে সারা বছর, তাই দাঁতটি সরাসরি দেখা যায় না; শুধু ওই পাত্রটি দেখা যায়, তবু লাখ লাখ ভক্ত এখানে সেটিই দেখতে আসে। মন্দিরটি অবস্থান একদম কান্দির কেন্দ্রস্থলে। চারদিকে পাহাড়ঘেরা আর পাহাড়গুলোর ঠিক মাঝখানে পাদদেশে অনেকটা গোলাকার শহর এই কান্দি। আর এই গোলাকার বৃত্তের কেন্দ্রেই অবস্থিত এই মন্দির। মন্দিরটি তাই সারা শ্রীলঙ্কার আধ্যাত্মিকতার এবং কখনো কখনো রাজনৈতিক ক্ষমতারও কেন্দ্রবিন্দু।
ঘটনাক্রমে গত পরশু ৯ অক্টোবর আমরা যখন শ্রীলঙ্কার প্রাচীন রাজধানী কান্দি যাই, তার আগের রাত ছিল পূর্ণিমা। তবে এটা সাধারণ পূর্ণিমা ছিল না। এটা ছিল প্রবরণা পূর্ণিমা। শ্রীলঙ্কার একটা মজার নিয়ম হলো, ওদের সাপ্তাহিক ছুটি শনি ও রবিবার আর তার সঙ্গে অতিরিক্ত প্রতি মাসের পূর্ণিমার পরের দিন। বৌদ্ধ ধর্মাবলম্বীদের দ্বিতীয় বৃহত্তম ধর্মীয় উৎসব হলো এই প্রবারণা পূর্ণিমা বা আশ্বিনী পূর্ণিমা। এদিন ওরা কাগজের ফানুসে প্রদীপ জ্বালিয়ে আকাশে উড়িয়ে দেয়। কঠিন চীবরদানের মাসব্যাপী অনুষ্ঠানও শুরু হয় এ দিন থেকেই। ভিক্ষুরা তাঁদের ত্রৈমাসিক বর্ষাব্রত শেষ করেন এ সময়। প্রবারণা হলো বৌদ্ধদের কাছে আত্মশুদ্ধি এবং অশুভকে বর্জন করে সত্য ও সুন্দরকে বরণের অনুষ্ঠান। আমি আর আমার স্ত্রী প্রবারণা উৎসবের ভিড়ে দালাদা মালিগাওয়া অর্থাৎ কান্দির একদম কেন্দ্র স্থলে ও হ্রদের পাশেই বুদ্ধের দাঁত রক্ষিত রয়েছে যে মন্দিরে, সেদিকে লক্ষ্য করে হাঁটছি। এখানে যারা আসছে তাদের সবার হাতেই দেখতে পাচ্ছি ভারি সুন্দর প্রস্ফুটিত লাল অথবা নীল পদ্ম ফুল। সবাই খালি পায়ে নিপাট সাদা বস্ত্র পরে সেই ফুলগুলো দুই হাতে সযতনে ধরে রেখে বিশাল মন্দির চত্বরে ঢুকছে। সকলের মুখাবয়বে একটা ধ্যানমগ্ন ভাব। দূর থেকে দেখা যাচ্ছে কয়েক তলা উঁচু মন্দিরের চত্বরে হাজার হাজার প্রদীপ জ্বলছে, সব মিলিয়ে একটা ভাবগাম্ভীর্যে পরিপূর্ণ আবহ তৈরি হয়েছে। তবে ধর্মীয় ভাবগাম্ভীর্যের বিপরীতে দেখা যাচ্ছিল স্বয়ংক্রিয় আগ্নেয়াস্ত্র হাতে সামরিক বাহিনীর লোকজনের সতর্ক উপস্থিতি। শ্রীলঙ্কার গত কয়েক দশকের রক্তক্ষয়ী ইতিহাস তাদেরকে যেকোনো জনসমাগমেই অতিরিক্ত নিরাপত্তার আয়োজন করতে বাধ্য করে।
প্রধান ফটক থেকে মন্দির অনেক দূরে। এ পুরোটা পথ স্লেট পাথরের পেভমেন্ট আর খুব সুন্দর রমনা গ্রাস দিয়ে মিলিয়ে ল্যান্ডস্কেপ ডিজাইন করা। কোলে করে অনেক চরম বৃদ্ধ-বৃদ্ধাকেও দেখেছি মন্দিরে নিয়ে যেতে, তাঁরা হয়তো এসেছেন রোগমুক্তির আকাঙ্ক্ষা নিয়ে। তাঁদের বিশ্বাস, বুদ্ধের দাঁতের অলৌকিক পরিসরে এসে তাঁদের সব অমঙ্গল দূর হয়ে যাবে, তাদের সকল সৎ প্রার্থনার জবাব মিলবে; যদিও বুদ্ধ দর্শনে সুস্পষ্ট কোনো সৃষ্টিকর্তার অস্তিত্ব বোঝা যায় না। আমার সামান্য যা পড়াশোনা, তাতে বৌদ্ধ ধর্মকে অনেকটা নিরীশ্বরবাদী ধর্ম বলে মনে হয়েছে।
আমি আগের লেখায়ই বলেছি, ভ্রমণের সময় কিছু একটা দেখলে তার সঙ্গে সম্পর্কিত অন্য প্রাসঙ্গিক বা আধা প্রাসঙ্গিক কিছু ভাবনা ঝিঁঝি পোকার মতো আমার মস্তিষ্কের নিউরনের মধ্যে বিরামহীনভাবে ডাকতে থাকে। মন্দিরের কাছাকাছি যেতেই আমার মাথার মধ্যে অমন তুলনামূলক ধর্মতাত্ত্বিক কিছু ঝিঁঝি পোকা ডাকাডাকি শুরু করে দিলো। সেটা হচ্ছে, অনেক মুসলিমও কাছাকাছি এমন ধরনের বিশ্বাস লালন করে। এ মন্দিরে বুদ্ধের যেমন দাঁত রক্ষিত আছে, কাশ্মীরের গ্রীষ্মকালীন রাজধানী শ্রীনগরের বিখ্যাত হযরত বাল মসজিদে অমনভাবে মুহাম্মদ (সা.)-এর মাথার চুল কিংবা দাড়ি কাচের বোতলে রক্ষিত আছে। সে জন্যই এই মসজিদের নাম হযরত বাল মসজিদ। হযরত আলি (রা.)-এর একটি যুদ্ধের পোশাকও এখানে রাখা আছে। সারা পৃথিবী থেকে দলে দলে মুসলমানরা এখানে যায় নানা প্রকার মানত নিয়ে; যদিও এ ধরনের মানত করা রাসুল (সা.)-এর শিক্ষার সম্পূর্ণ বিপরীত।
সারা পৃথিবীতে একক কোনো ঐতিহাসিক ব্যক্তিত্ব হিসেবে গৌতম বুদ্ধের চেয়ে আর কারো এতো বহুলসংখ্যক মূর্তি বানানো হয়নি। অন্য ধর্মাবলম্বী যাদের বহুসংখ্যক মূর্তি আছে, তাদের বেশির ভাগই পৌরাণিক ব্যক্তিত্ব, ঐতিহাসিক চরিত্র নয়। তবে সারা পৃথিবীতে যিশুর খোদাইকৃত অনেক মূর্তি আছে এবং তিনি একজন প্রমাণিত ঐতিহাসিক ব্যক্তিত্ব, তবে যিশুর ভাস্কর্যের সংখ্যা বুদ্ধের চেয়ে অনেক কম। বুদ্ধ গয়া থেকে শ্রীলঙ্কার দূরত্ব প্রায় তিন হাজার কিলোমিটার। ঐতিহাসিকদের মতে, বুদ্ধ এই বিশাল দূরত্ব অতিক্রম করে তিন তিনবার শ্রীলঙ্কা এসেছিলেন। আমার একটু অবাক লাগে, বুদ্ধ গয়া থেকে মাত্র ছয়শ কিলোমিটার দূরে আমাদের পূর্ববঙ্গে বুদ্ধ কেন শুধুমাত্র একবার এসেছিলেন বলে শোনা যায় । সত্য কথা বলতে গেলে সম্রাট অশোকের রাজত্বের আগে বুদ্ধ ধর্ম পূর্ববঙ্গে তেমনভাবে শিকড় গড়ে তুলতে পারেনি।
তবে প্যারাডক্স হলো, বুদ্ধ নিজে তাঁর প্রতিমা বানাতে ও পূজা করতে নিষেধ করেছিলেন। এ কারণে বুদ্ধের জীবনকাল, অর্থাৎ খ্রিস্টপূর্ব ষষ্ঠ শতক থেকে প্রায় সম্পূর্ণ প্রথম শতাব্দী পর্যন্ত কোথাও কোনো বুদ্ধমূর্তির অস্তিত্ব খুঁজে পাওয়া যায় না। মৌর্য বংশের প্রতিষ্ঠাতা সম্রাট অশোক ছিলেন ভারতীয় ইতিহাসে সবচেয়ে বুদ্ধভক্ত নৃপতি এবং তিনি বৌদ্ধ ধর্ম প্রসারের জন্য স্তূপ, বিহার বা শিলালিপিসহ নানা মাধ্যম ব্যবহার করে বৌদ্ধ ধর্মের বিস্তার ঘটান; কিন্তু মৌর্য শিল্পকলার কোথাও বুদ্ধমূর্তির কোনো উদাহরণ নেই।
বৌদ্ধ শিল্পকলার ইতিহাস ঘাঁটলে দেখা যাবে যে, প্রথমে বিভিন্ন যুগের শিল্পীরা কল্পনা থেকে তাঁর ভাস্কর্য বানাতে আর ছবি আঁকতে শুরু করে। কালক্রমে এসব শৈল্পিক ভাস্কর্য পূজার মূর্তির স্থান দখল করে নেয় আর আস্তে আস্তে বুদ্ধের গভীর আধ্যাত্মিক দর্শনের চেয়ে পাথরের বুদ্ধমূর্তির আরাধনা ও তাঁকে কেন্দ্র করে নানা রকম আচার-অনুষ্ঠান বৌদ্ধ ধর্মের প্রধান ধর্মাচরণ হয়ে দাঁড়ায়।
ইসলাম ধর্মেও কাছাকাছি প্যারাডক্স আছে। মুহাম্মদ (সা.) তাঁর মৃত্যুর আগে বারবার সাহাবিদের সতর্ক করে বলে গিয়েছিলেন যেন কবরের ওপর কোনো গম্বুজ নির্মাণ না করা হয়। তিনি বলেছিলেন, এসব করে পূর্বে পৃথিবীতে অনেক জাতি ধ্বংস হয়ে গেছে। তিনি জানতেন, ব্যক্তির প্রতি অতিরিক্ত আনুগত্য আস্তে আস্তে ইসলামের আধ্যাত্মিকতা থেকে মানুষকে দূরে সরিয়ে নেবে। রাসুল (সা.)-এর সাহাবি ও পরবর্তীরা এটা মেনে চলেন, তবে নবম শতাব্দীর শেষ দিকে মদিনার শাসকরা বর্তমানে তাঁর কবরের ওপর স্থাপিত ওই বিখ্যাত সবুজ গম্বুজটি নির্মাণ শুরু করে, যা সম্পূর্ণরূপে মুহাম্মদ (সা.)-এর সরাসরি আদেশ ও শিক্ষার লঙ্ঘন। ইরানের শেষ শাহ রেজা শাহ পাহলভি বড়ো বড়ো শিল্পীকে ডেকে এনে রাসুল (সা.)-এর পোর্ট্রেট আঁকার এমন প্রতিযোগিতারও আয়োজন করেছিলেন একসময়। মোট কথা, মানুষের একটা শাশ্বত মনস্তাত্ত্বিক আকাঙ্ক্ষা হচ্ছে আধ্যাত্মিক দর্শনকে পাশ কাটিয়ে আরাধনা বা মনস্কামনা পূর্ণ করার জন্য একটা বিকল্প ইমেজারি সৃষ্টি করা।

মুসলমানদের মধ্যে এমনও বিশ্বাস রয়েছে যে, মুহাম্মদ (সা.) পাথরের ওপর দিয়ে হেঁটে যাওয়ার সময় সেখানে তাঁর পদচিহ্ন থেকে যায়। মক্কা ফেরত অনেকেই এ ধরনের পদচিহ্ন সংবলিত পাথরখণ্ড নিয়ে আসতেন। তাঁরা শ্রদ্ধার সঙ্গে এগুলো বিভিন্ন মসজিদের ভেতর সংরক্ষণ করতেন, যা কদম রসুল বা কদম মোবারক নামে পরিচিত। দিল্লি ও বাহরাইচে, আহমেদাবাদে, উড়িষ্যার কটকে, পশ্চিম বাংলার গৌড় ও মুর্শিদাবাদে এবং আমাদের বাংলাদেশে নারায়ণগঞ্জের নবীগঞ্জে, চট্টগ্রামের বাগিচাহাটে কদম মোবারক মসজিদে এমন পায়ের ছাপ সংবলিত পাথর সংরক্ষিত আছে। মুসলমানদের অনেকেই নানা রকম মনস্কামনা পূরণ করার আকাঙ্ক্ষায় এসব মসজিদে আসে।
কিংবদন্তি আছে যে, বুদ্ধ যখন তাঁর মায়ের সঙ্গে দেখা করতে আষাঢ়ী পূর্ণিমায় তিন মাসের জন্য তাবতিংস স্বর্গে যান, তখন তাঁর অনুপস্থিতির সময় সর্বপ্রথম তাঁর একটি কাঠের প্রতিমা বানানো হয়। এই প্রবারণা পূর্ণিমায় তিনি স্বর্গ থেকে আবার পৃথিবীতে ফিরে আসেন। প্রেরিত পুরুষদের অনুপস্থিতিতে তাঁদের অনুগতরা কতো দ্রুত তাঁর শিক্ষার বিপরীতে কাজ করতে পারে তাঁর একই রকম একটি ঘটনার উল্লেখ কোরানেও আছে। মুসা নবী চল্লিশ দিনের জন্য তুর পাহাড়ে গেলে তাঁর অনুপস্থিতিতে তাঁর অনুসারীরা সোনা গলিয়ে তা দিয়ে একটা বাছুরের মূর্তি বানিয়ে তাকে পূজা শুরু করে।
‘মুসার অনুপস্থিতিতে তাঁর জাতির লোকেরা তাদের অলংকারের সাহায্যে গো-বৎসের একটা অবয়ব তৈরি করল, যা গরুর ন্যায় ‘হাম্বা’ আওয়াজ করত। তারা কী দেখলো না যে তা তাদের সঙ্গে কথা বলে না, আর তাদেরকে পথও দেখায় না। কিন্তু তা সত্ত্বেও তারা তাঁকে মা’বুদ হিসেবে গ্রহণ করল। তারা ছিল যালিম।’
সুরা আরাফ-১৪৮
বুদ্ধের কথাও তাঁর তথাকথিত সিংহভাগ অনুসারী শোনেনি, মুসা (আ.)-এর কথাও তাঁর অনুসারীরা শোনেনি, মুহাম্মদ (সা.)-এরও অনেক অনুসারী তাঁর কথা শোনেনি। এটাই বোধ হয় সারা পৃথিবীর মনুষ্য চরিত্র। অন্য ধর্মের অনেক ধর্মানুরাগীর ক্ষেত্রেও একই চরিত্র লক্ষ করা যায়।
অতিরিক্ত ভক্তিবাদের এমন নমুনা আরববিশ্বেও পূর্বে ছিল। মুসলমানদের আগমনের পূর্বে ও পরে বংলায় ‘ধর্ম-পাদুকার’ পূজা হতো। ভারতেও দেবতা বা দেবীর পবিত্র পদচিহ্নের পূজাপ্রথা বৌদ্ধ ও হিন্দু যুগে প্রায়শই দেখা যেতো। বৌদ্ধ ধর্মাবলম্বীদের প্রাচীন সূত্রেও অনুরূপ ‘বুদ্ধপদ’ নাম পাওয়া যায়।প্রাচীনতম গ্রন্থ চার বেদের এক গ্রন্থ যজুর্বেদে বলা হয়েছে,
‘ন তস্য প্রতিমা অস্তি’
অর্থাৎ ঈশ্বরের কোনো প্রতিমা নেই। তার পরও চারদিকে এতো প্রতিমা। প্রতিমাপূজার বিরোধিতা করে রাজা রামমোহন রায় একেশ্বরবাদী মতাদর্শের সূচনা করে এক ও অদ্বিতীয় পরম ব্রহ্মের উপাসনা করা শুরু করেন এবং এই বিশ্বাস থেকে তিনি ব্রাহ্মসমাজ ও ব্রাহ্মধর্ম প্রতিষ্ঠা করেন। রবীন্দ্রনাথের পিতামহ দ্বারকানাথ ঠাকুর পরবর্তী সময়ে এর নেতৃত্বে আসেন। সারা ভারতে শিব আর বিষ্ণুর লাখ লাখ মন্দির থাকলেও ব্রহ্মার মন্দির আছে মাত্র পাঁচ-ছয়টি। এর মধ্যে আজমির শহর থেকে কিছুটা দূরে পুস্কর তীর্থের কাছের ব্রহ্মার মন্দিরটি বিখ্যাত। ১৯৮৭ সালে আমি এ মন্দিরটি দেখতে পুস্কর গিয়েছিলাম। রবীন্দ্রনাথও ওই একই পরম ব্রহ্মারূপে পরম আদিসত্তার অন্বেষণ করেছেন সারা জীবন। তাঁর বিভিন্ন লেখায় সেটা উঠে এসেছে বারবার,
‘প্রথম আদি তব শক্তি
আদি পরমোজ্জ্বল জ্যোতি তোমারি হে
গগনে গগনে।’
আবার খুব সহজ করে সবার বোধগম্য করে লিখেছেন,
‘রথযাত্রা, লোকারণ্য, মহা ধুমধাম,
ভক্তেরা লুটায়ে পথে করিছে প্রণাম।
পথ ভাবে আমি দেব রথ ভাবে আমি,
মূর্তি ভাবে আমি দেব-হাসে অন্তর্যামী।’
খ্রিস্টানদের বাইবেলের New King James Version-এর Exodus 20:4-তে বলা হয়েছে,
‘You shall not make for yourself a carved image—any likeness of anything that is in heaven above, or that is in the earth beneath, or that is in the water under the earth.’
কিন্তু একইভাবে অন্যান্য ধর্মের মতো এখানেও অতিভক্তিবাদ আর শিল্পীদের মাধ্যমে প্রথমে শিল্পকলা হিসেবে এবং পরবর্তী সময়ে ভাস্কর্যগুলো আস্তে আস্তে পূজা বা পূজার কাছাকাছি আরাধনার মাধ্যম হিসেবে জায়গা করে নেয়। সারা পৃথিবীর ধর্ম ও আধ্যাত্মিকতার ইতিহাস পর্যালোচনা করলেই দেখা যায়, সাধারণ মানুষের চাপে ধর্মের মধ্যকার নিগূঢ় আধ্যাত্মিকতাকে পাশ কাটিয়ে প্রতিমা বা মূর্তি কেন্দ্রিক এমন ধর্মাচারের দিকেই মানুষের ঝোঁক অনেক বেশি। তাই ধর্মের আধ্যাত্মিকতার জায়গায় স্থান করে নিয়েছে নানা ধরনের আচার-অনুষ্ঠান আর রিচুয়াল।
মাহফুজুল হক জগলুল
কান্দি, শ্রীলঙ্কা
১১ অক্টোবর, ২০২২




