ল্যাম্পপোস্ট

আলো-আঁধারিত সরু রাস্তায়
পতঙ্গ পাগল করা ল্যাম্পপোস্টের আলোয় পথ খুঁঁজে খুঁজে চলি,
রাস্তা আঁকড়ে থাকা আমার বাঁকা ছায়া এগিয়ে যায় পরবর্তী ল্যাম্পপোস্ট বরাবর।
ল্যাম্পপোস্ট প্রদীপ নয় যে আপন হাতে বয়ে বেড়াবো,
ঘরে নিয়ে তুলে রাখবো মায়াময় কোনো তাকে।
স্থির ল্যাম্পপোস্ট চিরদিন দাঁড়িয়ে থাকে একা।
সারি সারি স্থির আলোকিত সংকেত গুনে গুনে সন্তর্পণে আমি এগোই,
প্রগাঢ় গন্তব্যের শেষে জমাটবদ্ধ শৈশবের দরোজায় যখন মৃদু টোকা দেই,
ঘুমভাঙা বিরক্ত প্রহরে ওপারে আধোজাগা মানুষেরা
কপাট খুলে অতর্কিত আনন্দের চকিত উষ্ণতায় আলিঙ্গনের
জন্য প্রসারিত করে কতোগুলো বিহ্বল উদাত্ত হাত,
চোখে জল, বুকে সেই চিরচেনা রক্তের ধারার প্রাচীন ধুক ধুক শব্দাবলি,
জগতের মহা আনন্দযজ্ঞে আরো একটি নতুন সংখ্যা যুক্ত হয় তখন।
নির্মোহ অচঞ্চল ল্যাম্পপোস্ট তখনো দাঁড়িয়ে থাকে একা,
একদম একা,
নতুন কোনো ক্লান্ত নিশাচরের অভিমানী চোখে পৌঁছে দিতে
পথ পাওয়া নতুন কোনো আলোর সংকেত।
বোকা ল্যাম্পপোস্ট আজন্ম একাকী তবু সে বিরহ বোঝে না,
বোঝে না মোহন মিলনের উৎসরিত ভাষা-পরিভাষা।
আসলে, এতো আলো ধার নিয়েও অকৃতজ্ঞ আমরা
কোনো দিন কোনো ল্যাম্পপোস্টকে আবেগে আলিঙ্গন করিনি কখনো।

মাহফুজুল হক জগলুল
৮ নভেম্বর, ২০২০

 

আরও পড়ুন