অজানা পূর্ণতার শেষ পর্ব

ওকে

 

ব্যস্ত নদীর ভরাট জোয়ারে সেই কবে আমার চোখের জল পড়েছিল,
নদী কি তা মনে রেখেছে?
নদীরা কি এসব তুচ্ছ জিনিস মনে রাখে?
নদী নিজেই জানে না,
জন্মাবধি নামহীন যে ঝরনার জলকে সে নিজের জল বলে ভেবেছে,
সেই ঝরনার সাথে তার দেখাই হবে না কোনো দিন।
ফলভারে নুয়ে পড়া বৃক্ষ জানে না,
যোজন দূরের কোন অচেনা প্লাবনভূমির উত্তল বুকে
অবশেষে উদগমিত হয়েছে তার ভেসে যাওয়া সুপ্ত বীজ।
কোন নামহীন পাখির হলুদ ঠোঁট দ্বীপ থেকে দ্বীপান্তরে ছড়িয়ে দিয়েছে তার ঘন সবুজ পাতার আন্দোলিত উপনিবেশ।
কোন আদিম পুরুষ অরণি ঘর্ষণে প্রথম স্ফুলিঙ্গ জ্বেলেছিল,
কোন আদিম নারী অচেনা তৃণ ও বিষাক্ত গুল্মের ভেতর থেকে
প্রথম শস্যবীজ শনাক্ত করে ঘরে তুলেছিল সভ্যতার ফসল।
আমরা তাদের নাম জানি না।
বিজ্ঞ শিক্ষক জানেন না,
ব্যাক বেঞ্চে বসে থাকা তার বোকাসোকা লাজুক ছাত্রটিই
তাকে ধারণ করছিল সবচেয়ে বেশি।
তিনি প্রায় নামহীন সেই বোকা ছাত্রটিকে মনেই রাখেননি,
তবু সেই তার ঋজু বাক্যগুলো সযত্নে পৌঁছে দিয়েছে
সবচেয়ে দূরবর্তী মরূদ্যানে।
বাবা জানতে পারেনি,
তার রাগী আর মুখবোজা নিষ্কর্মা সন্তানটিই
তাকে দিতে চেয়েছিল সবচেয়ে বেশি।
তাকে খুশি করতে সে সম্পূর্ণ বদলে যেতে চেয়েছিল প্রাণপণ,
কিন্তু ততোক্ষণে অনেক দেরি হয়ে গেছে।
এতো সব গুরুত্বপূর্ণ গল্পের শেষ পর্ব না জেনেই
নদী, বৃক্ষ, পাখি ও মানুষকে চলে যেতে হয়।
যাবার আগে কিছুটা সন্দেহ জাগে;
মনে হয়, এ গল্পের,
আমিই ছিলাম তীর,
আমিই ছিলাম ধনুক ও টঙ্কার ,
আমিই ছিলাম সেই সহিষ্ণু ধনুর্গুণ,
আমিই ছিলাম আমার আদিষ্ট নিশানা,
টানটান বাহুর পেশিতে আমিই ছিলাম
আমাকে তাক করা নিমগ্ন সেই অজানা তীরন্দাজ।
সে একজন,
দূরতম নক্ষত্রেরও ওপার থেকে আমাদের এসব
অজানা পূর্ণতার গল্পগুলো একা একা উপভোগ করেন।
আমাদের পূর্ণতায় তিনি কি তৃপ্ত হন?
কী আশ্চর্য,
সেটাও তিনি আমাদের জানতে দেন না কোনো দিন।

মাহফুজুল হক জগলুল
জুন, ২০২১

 

আরও পড়ুন