দুঃখের সুতোয় বোনা সুখের শরীরে,
সময়ের যাপিত সব তাপ ও অনুরাগ,
সুতো কাটা চরকার মতো চক্রাকার ফিরে ফিরে আসে।
বহু দূর থেকে ভেসে আসা মধুমঞ্জরির নিষিদ্ধ সুঘ্রাণ
এলোমেলো করে দেয় সাজানো তাঁতের তামাম বুনট।
পরিপাটি তাঁতের জমিনে এলোমেলো সুতো বাঁধতে নেই,
তবুও মানুষ জানে না কেন সে বারবার অনিয়মে
নিটোল বুনন এলোমেলো করে দিতে এতো ভালোবাসে,
শিশু যেমন ভালোবাসে ভেঙে দিতে তার পুতুল সংসার।
নিজের গহিনে অচিন এক অরাজক ধীরে, খুব ধীরে বেড়ে ওঠে
হঠাৎ
নিস্তব্ধ মধ্যরাতে নির্মোহ সন্ন্যাসীর মতো করতলে নিয়ে নেয়
আগামীর তাবৎ যতো জোছনা, সুবাস, সংগীত ও রংধনু।
নিজেরই হাতের আঙুল, নখ, চিরচেনা মুখমণ্ডল,
রিমলেস চশমা, প্রতিদিনের ঘড়ি,
আলনায় ঝুলে থাকা লম্বা মেরুন পাঞ্জাবি,
শখ করে কেনা গার্হস্থ্য জানালার তক্তিকাটা পর্দার ডিজাইন,
কিম্বা ঝুলবারান্দার পাশে পোষা ময়নার বাচাল ডাকাডাকি
সব কিছু কেমন যেন ঘোর অচেনা ও অযাচিত মনে হয় তখন।
এমনই অচেনা প্রহরের কোনো এক
সিঁধকাটা বেহায়া পূর্ণিমার রাতে মৌসন্ধ্যার গোলাপি আভায়,
নিশি পাওয়া বালকের পায়ে পায়ে নিরুদ্দেশ হেঁটে যায় মন।
মায়ার আঙুলে নকশাকাটা বয়স্ক কোলবালিশে সম্মোহিত
বাহারি সুখের সব সোহাগী আঞ্জাম
অকস্মাৎ নির্দ্বিধায় দূরে ফেলে রেখে
বিস্মিত ক্লিওপেট্রার মতো অচেনা যাযাবর চোখ
নিজেই নিজের দিকে হতবাক তাকিয়ে থাকে নির্ঘুম সারা রাত।
১০ মে, ২০২১