দিনের মধ্যে বারবার ঝমঝম বৃষ্টির শব্দ শুনি,
দৌড়ে গিয়ে বারান্দায় দাঁড়াই,
কিন্তু সেখানে কোনো বৃষ্টি নেই,
মেঘহীন আকাশে জ্বলজ্বল করছে প্রখর রোদ।
ক্লান্ত হাতে জানালায় পর্দা টেনে দিলে,
পর্দার ওপাশে আবার ঝমঝম সেই বৃষ্টি নেমে আসে।
জল পড়ে পাতা নড়ছে, আমি সুস্পষ্ট শুনতে পাই,
ভেজা মাটির সোঁদা ঘ্রাণ, আমার নাকে আসে,
শুধু আমার জন্য,
বৃষ্টি ভেজা এক অদেখা পৃথিবী আস্তে আস্তে তৈরি হচ্ছে ,
আমি এখন তা বেশ বুঝতে পারছি, কিন্তু,
দ্বিতীয়বার আমি ইচ্ছে করেই আর পর্দা সরাই না।
আমি এখন বুঝতে পারি পর্দা সরিয়ে নিলেই বৃষ্টি থেমে যাবে,
পাতার শব্দ, মেঘের ডাক, মাটির সুঘ্রাণ সব হারিয়ে গিয়ে
প্রচণ্ড খরায় আবার উষ্ণ হয়ে উঠবে আমার নিঃশ্বাস।
আমি এখন ক্রমশ বুঝতে শিখছি,
মাঝে মাঝে পর্দা না সরানোই ভালো,
পর্দার এপার আর ওপার কখনো এক নয়।
অথবা এমনও তো হতে পারে,
আসলে কোথাও কোনো বৃষ্টি নামেনি,
আর মানুষ জানেই না কি করে পর্দা সরাতে হয়।
তবু বৃষ্টির জন্য সুতীব্র তৃষ্ণা নিয়ে আমি পলকহীন
পর্দার দিকে তাকিয়ে থাকি। একসময়,
আমার তীব্র দৃষ্টি পর্দা ভেদ করে ওপারে প্রবেশ করা মাত্র
আচমকা ঝমঝম বৃষ্টি ঢুকে পড়ে
আমার স্টাডিরুমের একদম মধ্যখানে।
দাঁড়িয়ে দাঁড়িয়ে নির্বিকার ভিজতে ভিজতেই আমি দেখি,
একে একে ভিজে যাচ্ছে আমার দামি ল্যাপটপ,
আমার লেজার প্রিন্টার, আমার পুরনো বইয়ের শেলফ,
আমার পড়ার টেবিল, আমার সাধের রিডিং ল্যাম্প,
আর দোল খাওয়া আমার পৈতৃক সেই ইজিচেয়ার।
প্রচণ্ড বৃষ্টিতে আমার দৃষ্টি ক্রমশ ঝাপসা হয়ে আসছে,
বৃষ্টির শেষ সীমান্তে বিস্মিত ও সারিবদ্ধ দাঁড়িয়ে
আমার আপন কিছু পরিজন, গুটিকয়েক অফিস কলিগ,
আমার অসংখ্য বান্ধব ও সুহৃদ,
আর নির্লিপ্ত ও গম্ভীর একদল সুশৃঙ্খল ধর্মগুরু।
তবে বৃষ্টির বিভ্রমে আমি স্পষ্ট কারো মুখাবয়ব তেমন করে
আর চিনতে পারি না। সত্যি বলতে গেলে,
বৃষ্টিস্নাত প্রচণ্ড ঘোরের মধ্যে আমি বুঝতেই পারছি না,
আসলে কোনাটা বৃষ্টি,
আর কোনটা স্বপ্ন,
আর কোনটা মৃত্যু।
৯ এপ্রিল, ২০২৩