মঙ্গোলিয়া, সাহসী মানুষের দেশে: পর্ব-১৯

কৃষ্ণ হৃদয়ের নীল হ্রদে একদিন
দ্বিতীয় পর্ব

মঙ্গোলিয়ান ভূমিরূপের একটা প্রধান বৈশিষ্ট্য হলো তৃণভূমিগুলো প্রধানত কঠিন শিলা দিয়ে গঠিত । ওপরের টপ সয়েলের গভীরতা বড়জোর দুই থেকে পাঁচ ইঞ্চি। তাই মোটামুটি যেকোনো জায়গা দিয়েই গাড়ি চালানো যায়, চাকা দেবে যাওয়ার ভয় থাকে না । মঙ্গোলিয়ায় মোটামুটি গ্রীষ্মকাল মে মাসের শেষ থেকে সেপ্টেম্বরের মাঝামাঝি পর্যন্ত প্রায় ১১০ দিন স্থায়ী হয়ে থাকে। জুলাই হলো গ্রীষ্মের উষ্ণতম মাস। তখন পাহাড়ের গড় তাপমাত্রা ১৫ থেকে ২০ ডিগ্রি ও তৃণভূমি অঞ্চলে ২০ থেকে ২৫ ডিগ্রি বা কখনো কখনো ৩২ ডিগ্রি সেলসিয়াস পর্যন্ত হতে পারে। শীতকালে তাপমাত্রা কমে মাইনাস ৪৫ থেকে কখনো কখনো মাইনাস ৫০ ডিগ্রি সেলসিয়াস পর্যন্ত হতে পারে। তবে আশ্চর্যজনকভাবে মঙ্গোলিয়ার আকাশ বছরের অন্তত ২৫০ দিন পরিষ্কার উজ্জ্বল নীল রঙের থাকে । অন্যান্য শীতপ্রধান দেশের আকাশের মতো ঘোলা, অন্ধকার আর কুয়াশা বা মেঘাচ্ছন্ন থাকে না মঙ্গোলিয়ার আকাশ। এ কারণে এখানে তুষারপাতের পরিমাণ অপেক্ষাকৃত কম । প্রচণ্ড শীত আর গ্রীষ্মকালের উল্লেখযোগ্য উষ্ণতার মধ্যে ব্যবধান চরম, সেটা প্রায় ৭০ ডিগ্রি সেলসিয়াস পর্যন্ত হতে পারে । তাপমাত্রার এই বিরাট তারতম্যের জন্য মঙ্গোলিয়ার তৃণভূমির কঠিন শিলার উপরিভাগে ফাটল ধরে লাখো বছর ধরে ভেঙে ভেঙে দুই থেকে পাঁচ ইঞ্চি এমন ক্ষুদ্র ক্ষুদ্র পাথুরে টপ সয়েলে পরিণত হয়েছে। তবে একে টপ সয়েল বলা কতোটুকু সংগত সেটা বলা মুশকিল। কেননা এখানে সয়েল বলতে যে মাটিকে বোঝানোর কথা তা খুবই কম , এটা মোটামুটি অতি ক্ষুদ্র ক্ষুদ্র নুড়ি পাথরের সমাবেশ বলা যায়, যার ভেতর দিয়ে শুধু তৃণ ও ছোট অনেক বনফুল জাতীয় লতাগুল্ম জন্ম নিতে পারে, বড় উদ্ভিদ তেমন জন্মাতে পারে না। এ কারণেই লাখ লাখ গবাদি পশুর চারনভূমি হতে  পেরেছে এই ভূপ্রকৃতি। আর সে কারণেই প্রায় বত্রিশ লাখ মঙ্গোলীয়র দেশে গবাদি পশুর সংখ্যা প্রায় পাঁচ কোটি, যেখানে আঠারো কোটি মানুষের বাংলাদেশে গবাদি পশুর সংখ্যা আড়াই কোটির মতো। মাথাপিছু প্রত্যেক মঙ্গোলিয়ান গড়ে পঁয়ত্রিশটা ভেড়া আর তেরোটা ঘোড়ার মালিক। এ ছাড়া আরেকটি মজার তথ্য হলো, মঙ্গোলিয়ান বন্য ঘোড়ার ক্রোমোজম আমাদের সচরাচর দেখা সাধারণ ঘোড়ার চেয়ে দুইটা বেশি। এ নিয়ে পরবর্তী সময়ে বিস্তারিত লেখার ইচ্ছা আছে।

ফিরে আসি টপ সয়েলের কথায়। মনে রাখতে হবে, এই দুই থেকে পাঁচ ইঞ্চি টপ সয়েলই মঙ্গোলীয় সভ্যতার প্রাণ । এই সামান্য কয়েক ইঞ্চি টপ সয়েল না থাকলে এখানে ঘাস জন্ম নিতো না। ঘাস জন্ম না নিলে এটা এমন উৎকৃষ্ট পশু চারণভূমি হতে পারতো না আর সেটা না হলে খুব সম্ভবত এখানে কোনো জনবসতিও গড়ে উঠতো না এবং এমন পরিস্থিতিতে মঙ্গোল জাতিরও জন্ম হতো কি না সন্দেহ আর তা হলে আজ পৃথিবীর ইতিহাস একদম অন্যভাবে লেখা হতো । কেননা বুখারা, সমরখন্দের মতো সে যুগের সবচেয়ে সম্মৃদ্ধ বিশাল বিশাল নগরী ধ্বংস করার পর ১২৫৮ সালে চেঙ্গিস খানের নাতি হালাকু খান যখন বাগদাদ ধ্বংস করেন, তখন বাগদাদের জনসংখ্যা প্রায় দশ লাখ আর একই সময়ে লন্ডনের জনসংখ্যা চল্লিশ হাজারেরও নিচে। যখন বাগদাদে পৃথিবীর ইতিহাসের সবচেয়ে বড় লাইব্রেরি হালাকু খান ধ্বংস করেন, তখন লন্ডন শহরে একটিমাত্র লাইব্রেরিও নেই। লন্ডনের প্রথম লাইব্রেরি, চেতহাম লাইব্রেরি স্থাপন হয় এরও চারশ বছর পর ১৬৫৩ সালে। এভাবেই মঙ্গোলদের কাছে মধ্য এশিয়া ও পশ্চিম এশিয়ায় নির্মমভাবে মুসলিম সভ্যতার পরাজয় হলেও চেঙ্গিস খানের আরেক নাতি বার্কে খানের হাত ধরেই মিসরের মামলুক সম্রাটরা বিশাল অঞ্চল আবার মুসলিমদের দখলে ফিরিয়ে আনেন । বার্কে খানই খুব সম্ভবত চেঙ্গিস খানের সরাসরি রক্তধারার প্রথম রাজপুরুষ (চেঙ্গিস খানের জ্যেষ্ঠ সন্তানের পুত্র), যিনি ইসলাম ধর্ম গ্রহণ করেছিলেন ও তাঁর প্রভাবে পশ্চিম এশিয়া ও মধ্য এশিয়ার বিশাল অঞ্চলের মঙ্গোলরা আস্তে আস্তে ইসলাম ধর্ম গ্রহণ করতে শুরু করে এবং সেটাই হয়ে ওঠে ইতিহাসের আরেক নতুন ও গুরুত্বপূর্ণ প্যারাডাইম শিফট। মনে রাখতে হবে, মঙ্গোল ইতিহাসের এই গুরুত্বপূর্ণ ধর্মীয় মনস্তত্ত্বের পটপরিবর্তনটির সঙ্গে আমাদের উপমহাদেশের পরবর্তী ইতিহাসের সরাসরি সংযোগ আছে। ‘মুঘল’ শব্দটি ‘মঙ্গোল’ শব্দের ভ্রান্ত উচ্চারণ থেকে এসেছে, কিন্তু উপমহাদেশের মুঘলরা বেশির ভাগই তুর্কি রক্তধারার মানুষ ছিল, তারা সরাসরি মঙ্গোলীয় ছিল না। তবে এখানে কথা আছে, মুঘল সাম্রাজ্যের প্রতিষ্ঠাতা জহিরুদ্দিন মোহাম্মদ বাবর, মাতা ও পিতা উভয় দিক থেকেই চাগাতাই রক্তধারার মাধ্যমে চিঙ্গিস খান ও অন্য একটি মঙ্গোল উপগোত্রের তৈমুর লংয়ের রক্তধারার সঙ্গে সংযুক্ত ছিলেন। তাই বাবরের মুসলিম শাসক হিসেবে আবির্ভূত হওয়ার পেছনের কার্যকারণের দিকে তাকালে বার্কে খানেরে ইসলাম ধর্ম গ্রহণের ঘটনাকে গুরুত্ব দিতেই হবে। বিষয়টি নিয়ে তাই পরবর্তী সময়ে অন্য অধ্যায়ে আরো আলোচনা করার ইচ্ছা আছে । বার্কে খান ইসলাম ধর্ম গ্রহণ করার মাধ্যমে পশ্চিম ও মধ্য এশিয়ার বিশাল অংশে মঙ্গোলদের ইসলাম ধর্ম গ্রহণের যে ঐতিহাসিক প্রক্রিয়া শুরু হয় তা এ অঞ্চলের মঙ্গোল জাতির মনস্তত্ত্ব ও জীবনাচরণে অনেক পরিবর্তন এনে দেয় এবং তাদের চরিত্রের হিংস্রতা ও অন্যান্য মঙ্গোল বিশেষত্ব অনেক কমে যায় এবং একেও মধ্যযুগের ইতিহাসে আরো একটা প্যারাডাইম শিফট বলা যায়।

বার্কে খানের বাবা জোচি খানের জন্ম জটিলতার সঙ্গে মহাভারতের বিখ্যাত চরিত্র কর্ণের জন্ম জটিলতার প্রচণ্ড মিল খুঁজে পাওয়া যায়। যেকোনো বিচারেই কর্ণ মহাভারতের অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ চরিত্র এবং একই সঙ্গে গভীর সমালোচিত চরিত্রও। বিশেষ করে সাহিত্য সমালোচকদের মধ্যে কর্ণ চরিত্র নিয়ে বহুকাল থেকেই বিতর্ক চলে আসছে। বঙ্কিমচন্দ্র যেমন কর্ণ চরিত্রের মহিমায় মুগ্ধ, অন্যদিকে রাজশেখর বসুর মতো পণ্ডিত মনে করতেন কর্ণের চরিত্রে নীচতাই বেশি। মহাভারতের এই ট্র্যাজিক চরিত্র কর্ণের জন্ম হয় কুন্তীভোজের কুমারী রাজকন্যা কুন্তী আর সূর্যদেবের বিবাহবহির্ভূত মিলনের ফলে । সমাজের ভয়ে কুন্তী গভীর রাতে কর্ণকে অশ্ব নদীতে ভাসিয়ে দেন । অন্যদিকে ধারণা কর হয়, জোচি খানের জন্ম হয় চেঙ্গিস খানের প্রথম স্ত্রী বোর্তের অপহরণকারীর ঔরসে, চেঙ্গিস খানের ঔরসে নয়; কিন্তু চেঙ্গিস খান তাঁর জ্যেষ্ঠ পুত্র জোচিকে নিজের পুত্র হিসেবে বরণ করে নেন আনন্দের সঙ্গে । এখানেই চেঙ্গিস খানের সঙ্গে মহাভারতের তফাত । এখানেই চেঙ্গিস খান সবার চেয়ে আলাদা। যদিও মঙ্গোল রাজসভার এলিটরা ও চেঙ্গিস খানের অন্য পুত্ররা চেঙ্গিস খানের এ উদারতাকে ভালোভাবে নেননি আর সে কারণেই চেঙ্গিস খানের ইচ্ছা থাকা সত্ত্বেও তিনি জোচি খানকে তাঁর স্থলাভিসিক্ত করে যেতে পারেননি। মহাভারতের কুন্তীপুত্র কর্ণ আর চেঙ্গিসের জ্যেষ্ঠ পুত্র জোচি খান, এঁদের উভয়েরই জন্মের সামাজিক স্বীকৃতির অনুপস্থিতি তাঁদের জীবনকে চরম ট্র্যাজিক পরিণতির দিকে নিয়ে যায়। বহুদূরের দুই দেশের এই দুই বিখ্যাত চরিত্রের অস্বাভাবিক মিল এবং এর পরিণতি নিয়ে পরে বিশদভাবে তুলনামূলক আলোচনা করার ইচ্ছা আছে।

কথা বলতে বলতে অন্যদিকে চলে গেলাম। এ কারণেই শুনেছি অনেকে আমার লেখা পড়েন না। যা হোক, আবার টপ সয়েল বিষয়ে ফিরে আসি। এই টপ সয়েলের কারণেই প্রায় ষোলো লাখ বর্গকিলোমিটারের দেশ মঙ্গোলিয়ার তিন-চতুর্থাংশ এলাকাই এমন তৃণভূমি (Steppe) এবং এই তৃণভূমির বেশির ভাগেই কোনো বৃক্ষ নেই । কখনো কখনো একশ কিলোমিটারের মধ্যেও একটি বৃক্ষের দেখা মিলবে না । আমাদের মতো চারদিকে বৃক্ষ সুশোভিত ভূমিপ্রকৃতিতে বেড়ে ওঠা মানুষের জন্য এটা একটা চরম অস্বাভাবিক ও সম্পূর্ণ অন্য রকম অভিজ্ঞতা । পরিপূর্ণ বৃক্ষহীন কিন্তু মরুভূমি নয়, বরং নিরবচ্ছিন্ন হালকা সবুজ মাঠের এমন সীমাহীন নিটোল ভূমিরূপ আমাদের মতো গাছপালার শ্যামল ছায়ায় জীবন যাপন করা মানুষের মনস্তত্ত্বে ও মস্তিষ্কে এক ধরনের শূন্যতার বোধ সৃষ্টি করে। দিগন্ত বিস্তৃত এই সীমাহীন প্রান্তরে যেখানে দৃষ্টিসীমায় বাঁধা দেওয়ার মতো কোনো বস্তু নেই, সেখানে আমাদের আত্মা এক অন্য রকমের আধ্যাত্মিকতার মুখোমুখি হয়, মনে পড়ে যায় Encounter with nothingness-এর কথা। সনাতন, জৈন, বৌদ্ধ ধর্মের তাত্ত্বিক ও দার্শনিক ধারার মধ্যে বারবার শূন্যতার একটি ধারণা ঘুরেফিরে এসেছে। এ সীমাহীন প্রান্তরের শূন্যতা ও একই সঙ্গে এর অপরূপ রূপের সামনে দাঁড়িয়ে হয়তো শূন্যতা ও রূপ নিয়ে বুদ্ধের বক্তব্য চিন্তার প্রাসঙ্গিক খোরাক হতে পারে।

বুদ্ধ বলেছিলেন,

‘রূপ হলো শূন্যতা এবং শূন্যতাই হলো রূপ। শূন্যতা রূপ থেকে আলাদা কিছু নয়; রূপ শূন্যতা থেকে আলাদা কিছু নয় : শূন্যতা—যাই-ই হোক না কেন, তাই রূপ।’

বুদ্ধ মনে করতেন, ব্যক্তি হিসেবে আসলে মানুষের কোনো প্রকৃত অস্তিত্ব নেই এবং সে কারণেই তার সঙ্গে তার চারপাশের বস্তুজগতের কোনো সর্ম্পক গড়ে ওঠা অসম্ভব। কাজেই জগতে এমন কিছুই নেই যা তাকে আনন্দিত অথবা দুঃখিত করতে পারে । কিন্তু আমি তো বুদ্ধের মতো অসাধারণ কেউ নই, আমি খুব সাধারণ একজন মানুষ, তাই আমার অস্তিত্ব বস্তুজগতের সঙ্গে সম্পর্কিত। আমার দৃষ্টির সামনে এমন অদ্ভুত সুন্দর নিসর্গ আমাকে আনন্দিত করে, বিমোহিত করে। আমি এই বস্তুজগতের অপরূপ রূপ থেকে নিজেকে নির্মোহ রাখতে পারি না , তাই আমি যেখানেই যাই সেই অপরূপকে ধরে রাখার জন্য ছবি তুলে রাখার চেষ্টা করি।

মহাসড়ক থেকে না হলেও বিশ-পঁচিশ কিলোমিটার পুব দিকে দিকচিহ্নহীন প্রান্তরের মঝখানে এভাবে শূন্যতার অপরূপ রূপে বিভোর হয়ে আমি তখন অনেকটা ঘোরের মধ্যে চলে গেছি । যতোদূর চোখ যায় শুধু আদিগন্ত সম্প্রসারিত সবুজ তৃণভূমি । মানুষের সহজাত প্রবৃত্তি হলো সব সময় নিজের সাপেক্ষে একটা রেফারেন্স খোঁজা, যেমন একটা গাছ বা একটা পাহাড় বা একটা শিলাখণ্ড, যার মাধ্যমে সে নিজের অবস্থানকে চিহ্নিত ও নিশ্চিত করতে চায় । কিন্তু এখানে কোনো দৃশ্যমান রেফারেন্স নেই, যার মাধ্যমে সীমাহীন ওপরের নীলাকাশ আর পায়ের নিচের এ সীমাহীন প্রান্তরের মধ্যে নিজেকে সম্পর্কিত ও চিহ্নিত করা যায়। এ অবস্থায় নিজেকে হারিয়ে ফেলার এক ধরনের আনন্দময় পরাবাস্তব অনুভূতি হৃদয় ও মনকে আচ্ছন্ন করে ফেলে।


আদিগন্ত বিস্তৃত সীমাহীন তৃণভূমির ভেতর দিয়ে চলতে চলতে তখন হঠাৎ বেশ কিছুটা দূরে একটা ঢালের মধ্যে দেখতে পেলাম কয়েক হাজার ভেড়া আর ছাগলের পাল একদিকে হেঁটে যাচ্ছে । মনে হলো এতোক্ষণে শূন্যতার মাঝে এক ধরনের রেফারেন্স পাওয়া গেলো। আমি বাতাকে বললাম, ওই পশুর পালের দিকে গাড়ি ঘুরিয়ে দিতে, আমি গাড়ি থেকে নেমে এ জায়গাটা অনুভব করতে চাই । বাতা এমন একজন গাইড যে জানে তার কোন ক্লায়েন্টের চাহিদা কী। ক্লায়েন্টকে পরিপূর্ণ তৃপ্তি দিতে সে তার সর্বস্ব দেওয়ার জন্য প্রস্তুত। বাতা মোটেও বিরক্ত না হয়ে তার নির্ধারিত পথ থেকে অনেক দূরে আমার নির্দেশিত পথের দিকে যাওয়ার জন্য গাড়ি ঘোরালো ।

আসলে এ বিশাল জায়গাটা এতো জনমানবশূন্য যে মাইলের পর মাইল পেরিয়ে গেলেও একজন মানুষের দেখা মেলে না। বাতার কাছ থেকে জেনে নিলাম, আমরা যে জায়গাটায় আছি সেটার নাম Tsenkher mandal soum । ইংলিশেই লিখলাম, কেননা অনেক চেষ্টা করেও আমি এটা উচ্চারণ করতে পারিনি। বাতার কাছ থেকে বানানটা লিখে রেখেছিলাম বলে এখন সেটা লিখতে পারছি, তা না হলে সেটাও মনে রাখতে পারতাম না। বাতার কাছ থেকে এও শিখলাম যে এই soum শব্দের অর্থ হচ্ছে জেলা। এই জেলাটার আয়তন প্রায় আমাদের কুমিল্লার সমান। কুমিল্লার মোট জনসংখ্যা প্রায় ষাট লাখের মতো আর একই আয়তনের এই জেলার জনসংখ্যা মাত্র দুই হাজার দুইশ। চিন্তা করা যায় কতটা জনবিরল এই দেশটি!

কয়েক কিলোমিটার দূরে একটা সাদা গের দেখতে পেলাম। আমরা গাড়িতে করে দুজন সেখানে গেলাম। গেরের বাইরে একটা পিকআপ ভ্যান আর একটা মোটরসাইকেল দেখতে পেলাম। অনেক মঙ্গোলীয় রাখালই আর আগের মতো ঘোড়ায় চড়ে পশু চড়িয়ে বেড়ায় না। এখন তারা ঘোড়ার বদলে ব্যবহার করে হাইপাওয়ারের মোটরসাইকেল। গেরের ছাদে দেখলাম একটা স্যাটেলাইট ডিশ এন্টেনা লাগানো। আমরা অনুমতি নিয়ে জুতা খুলে অনেকটা মাথা নুয়িয়ে বেশ খাটো দরোজাটা দিয়ে তার গেরে ঢুকলাম। গেরের মধ্যে আসবাব অতি সামান্য । সবই খুব হালকা ধরনের জিনিসপত্র। দুটি সিঙ্গেল খাট, পাতলা তোশক, খাটের নিচে ছোট কয়েকটা টুল, কয়েকটা ভাঁজ করা রঙিন কম্বল। গেরের মাঝখানে একটা কারুকাজখচিত রঙিন কার্পেট । ওই কার্পেটের নিচে সারাটা গেরেই একটা ম্যাট বিছানো । গেরের মাঝখানে তিনটা কাঠের পিলার। মোটা পিলারটা ঠিক মাঝখানে গেরের ভেন্টিলেশনের জন্য উঁচু চূড়াটাকে ধরে রাখে, অন্য অপেক্ষাকৃত খাটো কাঠের পিলার দুটি মাঝের পিলারের দুদিকে সমান দূরে বসানো, এ দুটি পিলারই সম্পূর্ণ গেরের কাঠামোটাকে দাঁড় করিয়ে রাখে। বাতা আমাকে বললো, ঐতিহ্যগতভাবে সব মঙ্গোলীয় গেরের ছাদে কাঠের বিমের সংখ্যা হয় ১০৮টি। আমি তাকে বললাম, ছোট আর বড় সব গেরে তো বিমের সংখ্যা সমান হওয়ার কথা নয়। ও আমাকে বললো, তুমি আসলে কিছুই বোঝোনি। এই ১০৮ সংখ্যাটা স্ট্রাকচারাল বিবেচনা থেকে আসেনি, এটা এসেছে বৌদ্ধ ধর্মের প্রাচীন শাস্ত্র বিবেচনা থেকে।

তারপর সে ১০৮ কেন দেওয়া হয় এর একটা বিরাট তালিকা আমাকে শোনালো। আমি ওর তালিকার সব কিছু মনে রাখতে পারিনি, কয়েকটি মনে রাখতে পেরেছি, সেগুলা এখানে উল্লেখ করছি,

প্রথমটি হচ্ছে, তিব্বতীয় বৌদ্ধ শাস্ত্র অনুযায়ী নাকি নির্বানলাভের আগে মানুষকে ১০৮টি প্রলোভনের স্তর অতিক্রম করতে হয়। এই ১০৮টি প্রলোভনের স্তর অতিক্রম না করা পর্যন্ত তাকে বারবার জন্মাতে হবে । আমার এক বৌদ্ধ বন্ধু বলেছে, এই বারবার জন্মানোর সংখ্যা চার লাখ অযুতকল্পেরও বেশি বার হবে। চার লাখ অযুতকল্প বলতে আসলে কত বছর বোঝায় তা আমার মতো পাতিহাঁসের জ্ঞানের বাইরে। শুধু জানি, অযুত অর্থ হলো দশ হাজার আর আমার এক জ্ঞানী বন্ধু বলেছিল এক কল্প বলতে বোঝায় আটশ চৌষোট্টি কোটি বছর, আমার এ তথ্য কতোটুকু সত্য তা জানি না , আমার সে বন্ধু হয়তো আমাকে অবুঝ পেয়ে গেঁজ দিয়েও থাকতে পারে।

এ ছাড়া মঙ্গোলীয়দের ধর্মগ্রন্থের সংক্ষিপ্ত নাম হচ্ছে কাঞ্জুর, এই কাঞ্জুরের মোট পর্ব নাকি ১০৮টি। অন্যদিকে আবার বৌদ্ধদের জপমালায় নাকি সব সময় ১০৮টি দানা থাকে, এসব কারণে ওদের গেরে সব সময় ১০৮টি কাঠের বিম কেন্দ্র থেকে পরিসীমার দিকে ছড়িয়ে থাকে। উল্লেখ্য, হিন্দুদের জপমালায়ও শুনেছি ১০৮টি দানা থাকে, ছোট জপমালায় ২৭ দানাও থাকতে পারে, কেননা ২৭X৪ = ১০৮ । অনেকে বলেন, সংস্কৃত বর্ণমাল্যে মোট ৫৪টি অক্ষর , ৫৪X২ =১০৮, এ কারণে ১০৮ গুরুত্বপূর্ণ । এক যোগশাস্ত্রের গুরুর কাছে শুনেছি সূর্যের ব্যাস আর সূর্য থেকে পৃথিবীর দূরত্বের অনুপাত নাকি ১০৮। আবার একইভাবে চন্দ্রের ব্যাস আর চন্দ্র থেকে পৃথিবীর দূরত্বের অনুপাতও নাকি ১০৮, আবার পৃথিবীর ব্যাস আর সূর্যের ব্যাসের অনুপাতও নাকি ১০৮, আর সে কারণে মোট যোগাসন সংখ্যাও নাকি ১০৮। জানি না কোনটি সত্য, তবে সেই প্রাচীন কাল থেকেই বৌদ্ধ ও সনাতন শাস্ত্রে ১০৮ খুব গুরুত্বপূর্ণ সংখ্যা।

গেরের ভেতর মাত্র একজন বৃদ্ধা মহিলার সঙ্গে দেখা হলো। তিনি একটা বিশাল বালতিতে দুধ রেখে সেই দুধ একটা কাঠের মোটা লাঠি দিয়ে বিরামহীনভাবে ঘুটাচ্ছেন। গেরের মধ্যে একটা বিরতিহীন ঘরঘর শব্দ কেমন যেন একটা অদ্ভুত আবহ তৈরি করেছে। মহিলার সঙ্গে কথা বললাম। তিনি আমাদের একটা জগ থেকে একটা দুগ্ধজাত পানীয় ছোট ছোট গ্লাসে ঢেলে খেতে বললেন। বাতা তার কথামতো আমাকে আধা গ্লাস এগিয়ে দিয়ে নিজে এক গ্লাস মুখে দিলো। এতো কিছু হলো কিন্তু ওই বৃদ্ধা এক সেকেন্ডের জন্যও তাঁর দুধ ঘুটানো বন্ধ করলেন না। বাতার দোভাষী কার্যক্রমের মাধ্যমে মহিলার সঙ্গে পরিচয়ও হলো। অনেক কথাবার্তাও হলো। কয়েকটা বস্তা দেখিয়ে তিনি বললেন, ওই বস্তাগুলোর ভেতর আছে ছাগলের লোম। ছাগলের লোম দিয়ে তৈরি হয় বিখ্যাত মূল্যবান Cashmere wool. প্রতি কেজি Cashmere তারা ফ্যাক্টরিওয়ালাদের কাছে ৩৪ ডলার করে বিক্রি করে। তিনি গর্ব করে বললেন, তাঁর ছাগলের জাত অনেক ভালো, সে কারণে তিনি অন্যদের চেয়ে বেশি দাম পান। উলানবাটোরের একদম কেন্দ্রে, সুখবাতার স্কয়ারের পূর্বদিকেই মঙ্গোলিয়ার বিখ্যাত ফ্যাশন ব্র্যান্ড ‘গোবি’র বিশাল শোরুমে আমি ‘সাধারণ’ দেখতে একটা Cashmere সোয়েটারের দাম দেখেছিলাম চল্লিশ হাজার টাকার মতো। আমার মতো ফ্যাশনবোধহীন মানুষের কাছে ‘সাধারণ’ মনে হলেও ওটা হয়তো আসলে সাধারণ না, কেননা একটা সোয়েটারের দাম চল্লিশ হাজার হওয়া তো সোজা কথা নয়। জগতের কতোটুকুই বা আমরা জানি।

মহিলার সঙ্গে পরিচয়ের সুবাদে এখন এই পুরো জেলার মধ্যে মাত্র দুই হাজার একশ নিরানব্বই জন লোক আমার অপরিচিত রয়ে গেলো। সে হিসাবে আমার কাছে কুমিল্লা জেলার অপরিচিত লোকের সংখ্যা অনেক অনেক বেশি। অদ্ভুত এক অঙ্ক। মহিলা বললেন, তাঁরা দুই সপ্তাহের বেশি এখানে অবস্থান করছেন। সাধারণত তারা এতো দীর্ঘদিন কোথাও স্থির থাকেন না। এবার একটা বড়ো ব্যতিক্রম। আমি জিজ্ঞেস করলাম, কেন এতোদিন এখানে থাকলেন? তিনি বললেন,

কোথাও থাকা না থাকা তো আমাদের ওপর নির্ভর করে না। নির্ভর করে ওদের ওপর।

ওরা কারা?

ওরা হলো আমাদের গবাদি পশুর দল। ওরা আমাদের চেয়ে অনেক ভালো জানে কোথায়, কোন অঞ্চলে ভালো তাজা ঘাস আছে, কোথায় মাটিতে পানি আছে। বহু বহু দূর থেকে ওরা তাজা ঘাস আর পানির গন্ধ পায়। স্বর্গ থেকে ওরা সে খবর পায়। আমরা সেটা পাই না। বলা যায় না কাল সকালবেলা হয়তো সোজা যেকোনো দিকে ওরা হাঁটা শুরু করবে। আমরাও তখন বিন্দুমাত্র সময় ব্যয় না করে আমাদের তাঁবু গুটিয়ে ওদের পেছনে পেছনে অনুসরণ শুরু করবো। এটাই হাজার বছর ধরে আমাদের জীবন। আমরা প্রতি রাতে যখন ঘুমুতে যাই, তখন চিন্তা করে নিই আজই হয়তো এখানে আমাদের জন্য শেষ রাত। প্রতিদিন ভোরে খুব ভয়ে ভয়ে উঠে আমরা পশুদের দিকে তাকাই, লক্ষ করার চেষ্টা করি ওদের ভাবসাব কী। যখন দেখি আজ আর ওদের নতুন পথে হাঁটা শুরু করার কোনো ইচ্ছে নেই তখন একটা অদ্ভুত আনন্দ আমাদের রক্তের ভেতর দিয়ে বয়ে যায়। আমরা বুঝতে পারি আরো একটি দিন ও একটি রাতের জন্য আমরা এখানে থাকতে পারবো। যখন চলা শুরু করি, তখন গড়ে প্রতিদিনে প্রায় পঁচিশ মাইল পথ অতিক্রম করি । দিন শেষে পশুরাও থামে, আমরাও থামি ,তারপর সেখানেই তাঁবু টানিয়ে আমরা আমাদের এক রাতের সংসার শুরু করি, রান্না করি, খাই আর ঘুমিয়ে পড়ি । শহরের মানুষের মতো আমরা প্রতিদিন গোসল করি না ।

আমি জিজ্ঞেস না করতেও বৃদ্ধা কিছুটা হেসে বললেন,

আমরা কত দিন পর পর গোসল করি তা জিজ্ঞেস কোরো না, আমি সেটা তোমায় বলবো না।

আমি আমার অনেক লেখায়ই বলেছি ,আমার মাথায় হঠাৎ হঠাৎ আপাত রেফারেন্সহীন চিন্তা বা চিন্তার ছবি ভেসে ওঠে। আমি একে বলি ঝিঁঝি পোকার ডাক। মঙ্গোলীয় মহিলা তাঁর গোসলের পানির অভাবের কথা খুব বুদ্ধিদীপ্তভাবে না বলেও আমাকে বলে ফেলার পর হঠাৎ আমার মাথার মধ্যে সেই পুরনো ঝিঁঝি পোকার ডাক শুরু করলো, সঙ্গে সঙ্গে আমার চোখের সামনে ভেসে উঠলো আমার বাড়ির পাশের কালীগঙ্গা নদীর ঘাটে দুপুরবেলায় অসংখ্য মানুষের প্রতিদিনের গোসলের দৃশ্য। ফুলেফেঁপে ওঠা জোয়ারের পানিতে তারা ডুব দিয়ে দিয়ে গোসল করছে, তাদের গা-হাত-পা পরিষ্কার করছে । দৃশ্যটা কতোই না স্বাভাবিক , কতোই না সাদামাটা। এই মহিলার গোসল করতে না পারার কষ্টের কথা চিন্তা করে এই প্রথম আমার মনে হলো , এটা মোটেও সাধারণ কোনো দৃশ্য নয় । এটাও একটা অসাধারণ দৃশ্য। সৃষ্টিকর্তা আমাদের যে অসংখ্য উপহার দিয়েছেন তা তুলে নিলেই আমরা বুঝতে পারি সেটা আসলে কোনো সাধারণ উপহার ছিল না, সেটা ছিল তাঁর মহান করুণার অংশ । আমরা সঠিক সময়ে তাঁর করুণাকে বুঝতে পারি না বলে তাঁর উপহারকেও বুঝতে পারি না । আমরা মনে করি এ সব কিছুই লৌকিক ঘটনা । আসলে মানবজীবনের কোনো কিছুই লৌকিক নয়, ছোট-বড়ো সব কিছুই অলৌকিক ঘটনা , আমাদের দৃষ্টির সীমাবদ্ধতা আর হৃদয়ের ক্ষুদ্রতার কারণে আমরা অলৌকিকতাকে ধারণ করতে পারি না।

বৃদ্ধা মহিলার কাছ থেকে কখন বিদায় নিয়ে গাড়িতে এসে উঠেছি সঠিকভাবে মনে করতে পারি না। গাড়ি চলতে শুরু করেছে। কানের কাছে বাতা কী নিয়ে যেন বকবক করে চলেছে। নিশ্চয়ই কোনো পর্যটনবিষয়ক তথ্য হবে । আমি কিছু শুনতে পাচ্ছি না । গাড়ির উইন্ডশিল্ডের সামনে বিস্তীর্ণ সবুজ তৃণভূমি, কিন্তু আমি কিছুই দেখতে পাচ্ছি না । আমার চোখের সামনে দেখতে পাচ্ছি শুধু আমার কালীগঙ্গা নদীর জোয়ারের ঘূর্ণায়মান ফুলে ওঠা ঘোলা জলের ঢেউয়ের ভেতর অসংখ্য কোলাহলমুখর মানুষ মহানন্দে ডুব মারছে আর ভেসে উঠছে, ডুব মারছে আর ভেসে উঠছে। এই মানুষগুলোর মধ্যে আমি মরিয়ে হয়ে ওই বৃদ্ধাকে খুঁজতে চেষ্টা করছি; কিন্তু কোথাও তাঁকে খুঁজে পাচ্ছি না।

পশুর পাল, সাদা গের আর ওই বৃদ্ধাকে পেছনে ফেলে আমাদের গাড়ি আবার চলতে শুরু করেছে। সামনে দেখছি পাইনগাছের বন, তবে একটা গাছ থেকে অন্য গাছ অনেক দূরে দূরে । আমরা সাধারণত বন বলতে বুঝি গাছের গায়ে গাছ লেগে আছে আর তার নিচে নিরবচ্ছিন্ন অন্ধকার ঝোপঝাড় । কিন্তু এখানে বন অন্য রকম, এখানে বন আসলে মোটেই বন্য না । একটা পাইনগাছ থেকে আরেকটা পাইনগাছ অনেক দূরে, একটা গাছের ছায়া অন্যটার ওপর পড়ে না আর গাছের নিচে ভূমি একদম পরিষ্কার ঘাসের কার্পেট । এ বনে সহজেই একটা পাইনগাছকে একদম কাণ্ড থেকে গাছের চূড়া পর্যন্ত আলাদা করে দেখা যায় ।

যদিও একদমই প্রাসঙ্গিক না, তবু দূরে দূরে একা একা দাঁড়িয়ে থাকা পাইনগাছগুলোকে দেখে ওই মুহূর্তে কহলিল জিব্রানের বিবাহ নিয়ে প্রশ্নের উত্তরে দেওয়া তাঁর প্রফেট কবিতার সেই লাইনটি কেন যেন ঝিঁঝি পোকার ডাকের মতো বারবার আমার মাথার মধ্যে অনবরত ডেকে চলতে লাগলো । আসলে আমার মনে হয় ভ্রমণ নিয়ে লেখার সময় শুধু আশপাশের জিনিসের অনুপুঙ্খ বস্তুগত বর্ণনা দেওয়াই যথেষ্ট নয়, সেটা ইচ্ছা করলেই যে কেউ গুগল করে যেনে নিতে পারে। বরং ভ্রমণের সময় পারিপার্শ্বিক নিসর্গ ও অন্যান্য উপাদান মানবমনের ওপর কী ধরনের বিচিত্র প্রভাব বিস্তার করে এবং অনুভবের জন্ম দেয় সেটা বলা অনেক বেশি প্রাসঙ্গিক। তাই আপাত অপ্রাসঙ্গিক মনে হলেও সেটা উল্লেখ করছি, কহলিল জিব্রান বলেছিলেন, বিবাহিত নারী-পুরুষের মাঝে কিছুটা দূরত্ব থাকা উচিত, যেন উভয়েই আপন সত্তায় বিকশিত হতে পারে , একজন আরেকজনকে এমনভাবে যেন আগলে না রাখে যাতে দুজনারই বিকাশ বিঘ্নিত হয় । প্রকৃতি থেকে উদাহরণ তুলে নিয়ে তিনি বলেছিলেন সাইপ্রাস বা ওকগাছের কথা, এরা কেউই এক গাছের ছায়ার মধ্যে অন্য গাছ জন্ম নেয় না।

And stand together yet not too near together:
For the pillars of the temple stand apart,
And the oak tree and the Cyprus grow not in each other’s shadows.

আসলে প্রকৃতি যা অনেক সহজে বোঝে বিবাহিত নারী-পুরুষ বোধ হয় তেমন করে বোঝে না । বুঝলে মানুষের জীবন বোধ হয় আরো অনেক সুন্দর, প্রেমময় আর নির্বিবাদপূর্ণ হতে পারতো ।

মাহফুজুল হক জগলুল
১৫ অক্টোবর,২০২২

আরও পড়ুন