চৌকস উইকেটকিপার যেভাবে বিদ্যুৎগতিতে লাফ দিয়ে ক্যাচ ধরে, আমিও তেমন লাফ দিয়ে হাতে মশা মারার ব্যাট নিয়ে মশারির ভেতরে ঢুকে পড়ি। সে অর্থে আমি উইকেটকিপার আবার ব্যাটসম্যানও; কিন্তু শেষ রক্ষা হয় না, মশারিতে ঢুকতে যে কয়েক মাইক্রোসেকেন্ড সময় লাগে সে সময়ের মধ্যেই তেনারাও ডজনখানেক আমার সঙ্গে সঙ্গে ঢুকে পড়েন। কানের কাছে তাদের গুনগুন টের পাই; কিন্তু তাদের চোখে দেখি না, কী এক অতিপ্রাকৃত কারণে হাতে মশা মারার ব্যাট নিলেই তেনারা কেমন করে যেন অদৃশ্য হয়ে যান। অনেকক্ষণ গুঁতাগুঁতির পর যখন নিশ্চিত হই ওনাদের কেউ আর মশারির পরিসীমার মধ্যে নেই তখন একটা স্বস্তির বোধ ছেয়ে আসে মন ও শরীরে, লাইট নিভিয়ে ঘুমের আয়োজন করি। কয়েক মিনিট পার হতে হতেই তাদের রাগ বাগেশ্রী শুরু হয়ে যায়। বাধ্য হয়ে আবার লাইট অন করি, শুরু হয় আবার ব্যাট নিয়ে ব্যাডমিন্টন খেলা। কয়েক সেট খেলার পর একসময় যুদ্ধ শেষ হয়, ততক্ষণে ঘুম কেটে গেছে ,বাথরুম পেয়েছে , খুব সাবধানে মশারি উঠিয়ে আবার উইকেটকিপারের মতো লাফ দিয়ে বিছানা থেকে নামি, বাথরুম সেরে এসে পানি খেয়ে আবার মশারির মধ্যে লাফ মেরে ঢুকি, সঙ্গে সঙ্গে তেনাদের কয়েকজনও আবার আমার সঙ্গে ঢোকেন, আবার শুরু হয় আরো কয়েক সেট ব্যাডমিন্টন খেলা। এইভাবে গভীর রাত পর্যন্ত চলতে থাকে আমাদের উইকেটকিপিং আর ব্যাডমিন্টন খেলার পুনঃপুন চক্রাকার অভিজ্ঞতা। খেলা শেষে রাত কয়টা বাজে আমি বলতে পারবো না।
আমি প্রায়শই আমার লেখায় লিখি, জগৎ বড়োই রহস্যময়। এখন বলতে ইচ্ছে করে মশককুল বড়োই রহস্যময়, মশক নিধনের জন্য গঞ্জিকা ধোঁয়ার মতো যে ওষুধ নিয়মিত সশব্দে বিতরণ করা হয় তাহা আরো রহস্যময়… আর মেয়র সাহেবেরা অতীব অতীব রহস্যময় ।
জগতের সব রহস্য বেঁচে থাকুক, সৃষ্টিকে আরো আনন্দমুখর করে রাখুক।
২৭ ফেব্রুয়ারি, ২০২১