মুনবার্ড ভাষ্কর্য

যারা পেইন্টিংয়ের কোন খোঁজ খবর রাখে না তারাও অনেকে পাবলো পিকাসোর আঁকা বিশ্ববিখ্যাত গুয়ের্নিকা পেইন্টিংটির নাম শুনেছে। পাবলো পিকাসোর তার প্যারিসের স্টুডিওতে বসে শুধুমাত্র ধূসর, কালো ও সাদা এ তিনটি রঙ ও তার শেড ব্যবহার করে ক্যানভাসের উপর ১৯৩৭ সালে এ বিশালাকার (২৫’-৬” x ১১’-৫”) তেল চিত্রটি আঁকেন।

১৯৩৭ সালের ২৬ শে এপ্রিল স্পেনের উত্তরাঞ্চলের বাস্ক এলাকার গুয়ের্নিকা শহরের সাধারণ মানুষের উপর জার্মান-ইটালি জোটের নির্মম বোমা হামলার তীব্র প্রতিবাদ প্রকাশের পলিটিকাল স্টেটমেন্ট হিসেবে তিনি এ ছবিটি আঁকেন যা সারা বিশ্বে বিপুল সাড়া জাগায়। পিকাসোর সিদ্ধান্ত ছিলো স্পেনে গণতন্ত্র না আসা পর্যন্ত এ ছবিটি যেনো স্পেনে না যেতে পারে সেকারণে ১৯৩৯ থেকে ১৯৮১ সাল পর্যন্ত এটা নিউইয়র্কে ছিলো। এবার মাদ্রিদ ভ্রমণের সময় দল বেঁধে আমরা অনেকে মিউজেও রেইনা সোফিয়াতে যাই গুয়ের্নিকা সামনাসামনি নিজের চোখে দেখার জন্য। সেখানে গিয়ে আরো অনেক বাংলাদেশী স্থপতিদের সাথে দেখা হয়ে যায়। সবার চোখেই ছিলো আমার মতো সীমাহীন বিস্ময় আর অপার মুগ্ধতা। কতো সময় আমি ছবির সামনে দাঁড়িয়ে ছিলাম মনে নেই, সময় যেনো স্থির হয়ে গিয়েছিলো আমাদের জন্যে, তবে এক সময় নিরাপত্তা রক্ষিরা আমাদের অনেকটা অসৌজন্যমূলক ভাবেই মিউজিয়াম ত্যাগ করতে বলে কেননা ততক্ষণে মিউজিয়াম বন্ধ হওয়ার ঘন্টা বেজে গেছে।

মিউজিয়াম থেকে বের হয়ে সুন্দর ভাষ্কর্য শোভিত একটি লনে বসে ছিলাম কিছুক্ষণ আর সেখানেই স্পেনের আরেক দিকপাল শিল্পী জোয়ান মিরোর ১৯৬৬ বানানো ব্রোঞ্জের ঢালাই করা বিখ্যাত মুনবার্ড ভাষ্কর্যের (যার বাংলা হতে পারে চন্দ্রপাখি) কাছে মহা আয়েসে প্রত্যেকে ঠ্যাংয়ের উপর ঠ্যাং তুলে বসে থাকা আমাদের এ সুন্দর গ্রুপ ছবিটি তোলা। ছবিটি কে তুলেছে মনে করতে পারছিনা বলে দুঃখিত। ছবিটি তোলার কিছুক্ষণ পরেই একদল সশস্ত্র নিরাপত্তা রক্ষি এসে ওখান থেকেও আমাদের উঠিয়ে দিয়ে তাড়াতাড়ি মিউজিয়াম ত্যাগ করতে বলে। মিউজিয়াম ত্যাগ করে আমরা সবাই মিউজিয়ামের বিশাল ফ্লেমড গ্রানাইটের প্লাজায় এসে বসি কিন্তু তখনো আমাদের গুয়ের্নিকার মুগ্ধতার গভীর ঘোর কাটেনি। আমরা বেশ অনেকক্ষণ নির্বাক হয়ে সেখানে বসে ছিলাম আর তার কিছুক্ষণ পরেই আমাদের আটজন স্থপতিকে ‘ মাস হিপনোটিজম ‘ বা স্থপতি সেলিম ভাইয়ের মতে ‘মেসমারিজম আর্টের ‘ মাধম্যে কাবু করে আমাদের দলেরই এক স্থপতির সমস্ত টাকা-পয়সা সহ কালো ব্যাগটি চোখের নিমিষে আমাদেরই একদম সামনের টেবিলের উপর থেকে আশেপাশে থেকে হেটে বেড়ানো কোন স্পেনিশ চোর বা চোরের দল যাদুর মতো গায়েব করে দেয় । সে বিস্ময়কর গল্প ঐ স্থপতির অনুমতি পেলে ইনশাআল্লাহ আরেকদিন বলবো।

আরও পড়ুন