আমার এক বছরের জুনিয়র আরিফের সঙ্গে প্রথম পরিচয় ও অন্তরঙ্গতা সেই ১৯৭৬ সালে মির্জাপুর ক্যাডেট কলেজ থেকেই। ১৯৮১ সালে ক্যাডেট কলেজ থেকে চলে এলেও সে সময় আমাদের মধ্যে নিয়মিত চিঠি বিনিময় হতো। তারপর বুয়েটের স্থাপত্য বিভাগে এক বছর কাটানোর পরই আরিফের মাধ্যমেই আমার স্থাপত্যে ভর্তির কোচিং ‘ক্যারিয়ার’ শুরু। যথারীতি আরিফ সাফল্যের সঙ্গে স্থাপত্যে ভর্তি হয়ে যায়। সেই থেকেই আমরা আছি একে অপরের আশপাশে ৪৬ বছর ধরে।
আরিফের কতো গুণের কথা উল্লেখ করবো? আবৃত্তিকার, কবি, লেখক, সংগঠক- সবাই সেগুলো জানে। বিশাল বিশাল অনুষ্ঠান একদম নিখুঁত ডিটেইলের সঙ্গে সফলভাবে সম্পন্ন করার ক্ষেত্রে ওর কোনো তুলনা নেই আর সেসব অনুষ্ঠানে কেমন একটা গভীর জাদুর মাধ্যমে ও কেমন করে যেন আমাদের জড়িয়ে ফেলে সব সময়। ও কখন ঘুমায় তা আমি বুঝি না, ও নিজের কাজ কখন করে তাও বুঝি না, সব সময়ই আমাদের মাতিয়ে রাখছে রাতদিন। আরেকটি মজার জিনিস হলো ওর চূড়ান্ত উঁচু মানের রসনাবিলাস। ও যে খুব বেশি খায় তা না, তবে ওর সামনে খাবার থাকতে হবে অনেক পদের এবং প্রতিটিই হতে হবে সেরা মানের আর এগুলো সে একা খাবে না, তার সঙ্গে থাকতে হবে অনেক মানুষ। মোট কথা, মজলিস সব সময় গরম থাকতে হবে। মানুষকে খাইয়ে ওর মতো আনন্দ পেতে আমি খুব কম মানুষকে দেখেছি। আমার মনে আছে, ওদের নীলক্ষেতের বাসায়ই সেই ছাত্র বয়সে আমি জীবনে প্রথম বাকরখানি দিয়ে এক আজিব ধরনের কাবাব খেয়েছিলাম। পরে জেনেছি, ওই বস্তুর নাম সুতলি কাবাব।
আজ আমার এই প্রিয় ছোট ভাইটির জন্মদিন। পরম করুণাময়ের কাছে প্রার্থনা করি, তিনি যেন আমার ভাইটিকে ও ওর পরিবারের সবাইকে ভালো রাখেন, সুখে রাখেন, সুস্থ রাখেন সব সময়।
১৪ নভেম্বর, ২০২২