মুলগার খাল

আমাদের দক্ষিণাঞ্চলের মানুষ যখন প্রথম ঢাকায় আসে তখন তুরাগ, বালু—এসব ছোট নদীকে নদী ডাকলে মুখ টিপে টিপে হাসে। এতো ছোট সাইজের নদীকে নদী বলতে তাদের কষ্ট হয়। কেননা আমাদের এলাকায় এমন অনেক খাল আছে, যা তুরাগ বা বালু নদীর চেয়ে অন্তত দ্বিগুণ প্রশস্ত। ছবির এই খালটি এমন একটি খাল, নাম মূলগ্রাম খাল, স্থানীয় ভাষায় ‘মুলগার খাল’। কালীগঙ্গা থেকে শুরু হয়ে অনেক গ্রাম, গঞ্জ, হাট-বাজার, মাঠ পেরিয়ে ইনিয়েবিনিয়ে যুক্ত হয়েছে পশ্চিমে বলেশ্বর নদের সঙ্গে। বলেশ্বরের ওপারে বাগেরহাট জেলা। দুই দিকে নদীর সঙ্গে যুক্ত হওয়ায় খালে নিয়মিত জোয়ার-ভাটা হয়। কখনো কখনো জোয়ার-ভাটার পার্থক্য সাত-আট ফুট পর্যন্ত হয়ে থাকে। শত বছর ধরে খালটি তাই হাজার হাজার মানুষের দৈনন্দিন জীবনযাত্রার পরম সঙ্গী। মাত্র দুই দশক আগেও সড়কব্যবস্থা উন্নতির আগে এই খালটিই ছিল এই জনপদের যোগাযোগ আর চলাচলের একমাত্র অবলম্বন। এখন অনেক অবস্থাসম্পন্ন গৃহস্থ গভীর নলকূপে পাম্প বসিয়ে বাড়িতে আধুনিক চকচকে টাইলসের বাথরুম বানিয়েছে; কিন্তু তাদের অনেককেই দেখা যায়, দুপুরবেলা উদাস ভঙ্গিতে গায়ে সরিষার তেল মেখে লুঙ্গি-গামছা নিয়ে খালের ঘাটে আসে গোসল করতে। তাদের জিজ্ঞেস করলে বলে, ‘খোলা পানিতে’ গোসল না করলে ‘কেমন কেমন’ জানি লাগে, জোয়ার-ভাটার পানির চেয়ে নাকি ভালো কোনো পানি হতে পারে না। এই পানিতে গোসল করলে নাকি মাথা ঠাণ্ডা থাকে। আসলে খালটি যে শুধু কালীগঙ্গা থেকে বলেশ্বরে বয়ে যায় তা না, তাদের মনোজগতের মধ্যেও খালের ঘোলা জল বয়ে চলেছে প্রজন্ম থেকে প্রজন্মান্তরে।

 

৩০ জুন,২০২০

আরও পড়ুন